নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ :-

গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে জলমগ্ন দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলা। পূর্ব মেদিনীপুর, জয়রামবাটী রামকৃষ্ণ ভিটা থেকে শুরু করে একাধিক জায়গায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এবার বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছে নদীয়া জেলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে বন্যা অধ্যুষিত জেলাগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানকার মানুষজনের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাদের খাদ্যবস্তু ও ভিন্ন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন।
নদীয়ার ভাগীরথী নদীর জল হুহু করে বেড়েই চলেছে। তার মধ্যে বিভিন্ন ব্যারেজ খুলে দেওয়ার জন্য আরো অতিরিক্ত জল ঢুকে পড়ছে গ্রামগঞ্জে। নদীয়ার শান্তিপুর এলাকার নদীর পার্শ্ববর্তী মানুষগুলো বেশিরভাগই কুটির শিল্পের মাধ্যমে জীবিকার নির্বাহ করেন। টানা প্রবল বৃষ্টিতে এখানকার মানুষজনদের অবলম্বন, যে তাঁত শিল্প, তা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, এখানকার নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার যে জেলেরা রয়েছে, তাদের মাছ ধরা থেকে শুরু করে জাল তৈরি সবকিছুই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে সামনে দুর্গাপুজো, এর মধ্যে আচমকা বন্যার পরিস্থিতি, তাদের জীবিকায় অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে।
ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী একটি সরকারি স্কুল রয়েছে, সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনেকটাই চিন্তায় রয়েছেন, এই কারণে যে আরেকটু জল বাড়লেই সরকারি স্কুলটি নদীর জলে তলায় নিমজ্জিত হওয়ার অবস্থায়। এখানকার গ্রামে এই একটি সরকারি স্কুল, তাই যদি স্কুলটি না থাকে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন পাঠন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে! এই আশঙ্কাই করছেন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
প্রতিবছরই প্রবল বৃষ্টিতে ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও মানুষজনের অনেকটাই অসুবিধের সৃষ্টি হয়, তাই তাদের আশঙ্কা! যদি আরও একটু জল বাড়ে তাহলে বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কোথায় গিয়ে তারা আশ্রয় নেবেন ? সন্তান-সন্ততি নিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া হতে হবে এই ভেবেই রাতের ঘুম প্রায় উড়ে গিয়েছে!
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গ্রামবাসীদের একটাই বার্তা, বন্যা আসার আগে তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা যাতে নেওয়া হয়। হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে যেভাবে চারিদিকে হু হু করে জল ঢুকছে, তাতে এক প্রকার আতঙ্কের মধ্যেই রাত কাটাচ্ছেন নদীয়ার শান্তিপুর অঞ্চলের মানুষজন।