নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২০ মার্চ ‘ ২০২৫ :-

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জীববৈচিত্র্যে যুক্ত হল নতুন পালক। এই প্রথমবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের প্রায় ২৮০০ ফুট উচ্চতায় হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুর অথবা চম্বা সেক্রেড ল্যাঙ্গুরের ছবি ক্যামেরা বন্দী করলেন ডানকুনির এক জঙ্গলপ্রেমী পর্যটক টুবাই মান্না।
উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে এই প্রথমবার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের বিচারে ‘ক্রিটিকালি এন্ডেনজার্ড’ হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুরের অস্তিত্ব মেলায় খুশি বনদপ্তর। বনদপ্তরের নথি অনুসারে ২০১৮ সালে প্রথমবার বক্সার জঙ্গলে হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুরের দেখা মিললেও সে ছবি প্রকাশ করেনি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। হালে পর্যটকের ক্যামেরায় ওই বিপন্ন প্রজাতির ল্যাঙ্গুরের ছবি ওঠায় বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেন।
দেশের মধ্যে হিমাচল প্রদেশের চাম্বা ভ্যালি ও জম্মু কাশ্মীরে ওই প্রজাতির ল্যাঙ্গুরদের বসতি রয়েছে। এছাড়া নেপাল, ভুটান, উত্তর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ওই প্রজাতির ল্যাঙ্গুরের দেখা মেলে। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুরের সংখ্যা মাত্র দেড় হাজারেরও কম রয়েছে বলে দাবি আইইউসিএনের।
২০০৪ সালের আগে পর্যন্ত ওই ল্যাঙ্গুররা বেঙ্গল সেক্রেড ল্যাঙ্গুর হিসেবেই পরিচিত ছিল। তার পর তাদের স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করে ‘হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুর’ নামকরণ করা হয়। এই ল্যাঙ্গুর প্রজাতি ‘কালোবাইন’ অর্থাৎ পাতাখোর হিসেবে পরিচিত। এরা সারা বছর গাছের পাতা, ফুলের কুঁড়ি ও নানান ধরনের ফল খেয়ে বেঁচে থাকে।
টুবাই মান্না জানান, অনেকটা দূরে উঁচু গাছের মগডালে এক অদ্ভুত দর্শন বন্যপ্রাণীকে লক্ষ্য করে তার চোখ আটকে যায়। তারপর ক্যামেরার জুম লেন্সে চোখ রাখতেই তিনি বুঝতে পারেন যে বক্সার জঙ্গলে হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুরের বসতি রয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বক্সার জীব বৈচিত্র্যে হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুরের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করে নেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম যে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে হিমালয়ান গ্রে ল্যাঙ্গুরের বসতি রয়েছে। তবে এতদিন তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এক পর্যটক যখন নিজে চাক্ষুষ করেছেন তখন তো আর চাপাঢাকা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন আসে না। এটা আমাদের গর্বের বিষয়। তবে ওই বিশেষ প্রজাতির ল্যাঙ্গুরের সংখ্যা নিয়ে এখনও আমাদের কাছে কোনো নথি নেই। ভবিষ্যতে সুমারি করার কথা ভাবা যেতে পারে।’