জারুল রাভা ,দ্য ফোর্থ কলাম , ২১ অক্টোবর’১৯ :-

ছবি – চলছে গাছ রোপণ ,’কৈলাসের’ ।
একটি মাঠ ও একদল তাজা তরুণ । কিশোর কালের প্রতি ভোরবেলায় সবুজ ঘাসে দাপাদাপি করে পা মেলা তরুণদল। স্মৃতির উঠোন বাঁচিয়ে রাখতে এগিয়ে এলো তারাই । যে মাঠ তাদের ‘উদার’ হতে শিখিয়েছে, যে মাঠের মখমল সবুজ তাদের সংঘবদ্ধতা শিখিয়েছে , সেই মাঠ’কে খানিক সবুজ ফিরিয়ে দিতে এগিয়ে এলো তারাই । বিপন্ন মাঠ ঘিরে বপণ করলো চারাগাছ -কিশলয় । যা একদিন মহীরুহ হয়ে এই মাঠকেই ফের করে তুলবে আরও সবুজে সবুজ । রবিবার, আলিপুরদুয়ারের ফুসফুস প্যারেড (ক্যাম্প) গ্রাউন্ডের চারধারে গাছ লাগালো একদল তরুণ তুর্কী । ঘটনায় সাধুবাদ জানিয়ে কুর্নিশ করতে দ্বিধা করছে না শহর বাসী ।
না আছে কোনো সংস্থা , না আছে কোনো সংগঠন । সম্বল বলতে হোয়াটস আপ । সেটাকে সঙ্গী করেই একত্রিত হয়েছিল আলিপুরদুয়ারের নীলাদ্রি-সৌরভ-প্রীতম-কল্যাণ-শিলাদিত্যরা । গ্রূপের নামও দিয়েছিল চেনা ছকের বাইরে গিয়েই , ‘কৈলাস’ । এরপরেই সমবেত সিদ্ধান্ত । যে প্যারেড গ্রাউন্ডে কেটেছে আশৈশব-কৈশোর । কখনো সস্তা ক্রিকেট ব্যাট বল হাতে ,কখনো কাদাজলে নেমে ফুটবলে লাথি মেরে , সেই মাঠকেই সাধ্য মতো সাজিয়ে তুলতে হবে সবুজে , গাছ লাগিয়ে । এমনটাই ভেবে নিয়ে আর দেরী করেনি ‘কৈলাস ‘ । মা দুর্গার কৈলাস যাত্রার পর পরই রবিবার তারা নেমে পড়ে কোমর বেঁধেই । চাপ-বকুল-রাঁধাচূড়ার কচি কিশলয় লাগিয়ে ফেলে সযত্নে , মাঠ ঘিরে । এবং চারাগাছ গুলোর সুরক্ষায়, মজুর ডেকে, বাঁশের বেড়া দিয়েও ঘিরে দেয় , চেনা ছকের বাইরে গিয়েই ।
এবং লোকদেখানো (পড়ুন ফেসবুক দেখানো) গাছ লাগানো যে তাদের উদ্দেশ্য-বিধেয় নয় , সে ব্যাপারেও নিশ্চিন্ত করেছে ‘কৈলাস’ । ‘মাঠে প্রতিদিনই আমাদের কেউ না কেউ হাজিরা দেয় । এখানেই এখন আমরা সন্ধ্যার আড্ডা থেকে জীবনরস সংগ্রহ করি । ফলে গাছ গুলো বেঁচে থাকবে । আমরাই বাঁচিয়ে রাখবো , দৃঢ় শোনায় ‘কৈলাসের’ কোরাস-অঙ্গীকার । যদিও ,তার সারবত্তা ঠিক কতটা , সেটা সময় বলবে ।