প্ল্যাস্টিক বদলে যাবে জল ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডে : সৌজন্যে নয়া ব্যাকটেরিয়া : কমবে প্ল্যাস্টিক দূষণ

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৬ সেপ্টেম্বর’১৯ :-

প্লাস্টিক বদলে যাবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও জলে । অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি । এমনতরো এক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিরই সন্ধান দিয়েছেন দুই ওয়াই-জেন প্রতিনিধি । প্লাস্টিক সমস্যায় জর্জরিত বর্তমান পৃথিবীতে এই দুই তরুণ বিজ্ঞানীর অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার এবং আজকের দুনিয়ায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার স্বাভাবিকভাবেই ঝড় তুলেছে গোটা দুনিয়ায় । আবিষ্কৃত হয়েছে এমন এক ব্যাকটেরিয়া যে কিনা প্লাস্টিক বিজারণ করতে সক্ষম । চলতি ভাষায় এই ব্যাকটেরিযার খাদ্য প্ল্যাস্টিক । শুধু তাই নয় প্লাস্টিককে জল ও কার্বন ডাই অক্সাইডে বদলে দিতেও সক্ষম এই ব্যাকটেরিয়া । আপাতত পরীক্ষামূলক অবস্থানে এই আবিষ্কার প্রযুক্তি রইলেও আগামীতে এই প্রযুক্তির হাত ধরেই প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে পৃথিবী বাঁচতে সক্ষম হবে বলেই আশাবাদী বিজ্ঞান মহল ।

মহাসাগরগুলির উচ্চ দূষণ এই গ্রহের একটি বড় সমস্যা। এক কঠিন চ্যালেঞ্জ । সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, সম্ভবত 2050 সালে সমুদ্রের জলে মাছের চেয়ে বেশি প্লাস্টিকের সন্ধান পাওয়া যাবে এবং এই কারণে গোটা পৃথিবী জুড়েই এই সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ চলছে । প্ল্যাস্টিককে বায়োডিগ্রেডেবল অবস্থায় আনতে পারলেই কেল্লা যে ফতেহ হবে সেটা ভালোই জানেন বিজ্ঞানীরা । কেননা বর্তমান দুনিয়ায় প্ল্যাস্টিক ছাড়া গতি নেই । কিন্তু প্ল্যাস্টিকের পচন হয় না এবং প্ল্যাস্টিকের এই ধর্মই সর্বনাশ ডেকে এনেছে নাগরিক দুনিয়ার । সে কারণে বিজ্ঞান মহল খোঁজ করছিলেন এমন কোনো একটি জীবাণুর , যা প্ল্যাস্টিকে পচন ধরতে সক্ষম । এবং এমনতরো এক ব্যাকটেরিযার খোঁজই পেয়েছেন দুই বিজ্ঞান শিক্ষার্থী জ্যানি ইয়াও এবং মিরান্ডা ওয়াং । যারা স্কুল জীবন থেকেই এই প্রকল্প বিকাশে কাজ করে চলেছেন এবং খুঁজে পেয়েছেন সে ব্যাকটেরিয়া ,যা কিনা প্ল্যাস্টিক খেয়ে জল ও কার্বন ডাই অক্সাইড উগরে দেয় ।
পার্লম্যান বিজ্ঞান পুরস্কার জিতে নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী বিজ্ঞান শিক্ষার্থী জ্যানি ইয়াও জানান, প্লাস্টিককে সিওটু এবং জলে রূপান্তর করতে সক্ষম এই ক্ষুদ্র ব্যাকটিরিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। প্রযুক্তিটি দুটি উপায়ে ব্যবহৃত হয়, সৈকত পরিষ্কার করতে এবং পোশাকের জন্য কাঁচামাল তৈরি করতে। তার সঙ্গী মিরান্ডা ওয়াং বলেছেন, “প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া মানুষের পক্ষে ব্যবহারিকভাবে অসম্ভব, উপাদানগুলি ভেঙে ফেলার জন্য আমাদের প্রযুক্তি দরকার, এবং যাতে সবকিছুই জৈব উন্নয়নে পরিণত হয় । এই ব্যাকটেরিয়া সেটা করতে সক্ষম “।
কিভাবে কাজ করে এই ব্যাকটেরিয়া ? প্রাথমিকভাবে এই প্রযুক্তির বিকাশকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে । প্রথমে প্লাস্টিকটিকে দ্রবীভূত করা হয় এবং এনজাইমগুলি অনুঘটক হিসাবে উদ্ঘাটিত হয় । যার ফলে প্লাস্টিকটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র ভগ্নাংশে পরিণত হয়। এই উপাদানগুলি একটি বায়োডিজাস্টার স্টেশনে স্থাপন করা হয় । এবং শেষ অবধি কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলে রূপান্তরিত হয় প্ল্যাস্টিক মন্ডটি । গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে মাত্র ২৪ ঘন্টা ।

জ্যানি ও মিরান্ডার এই যুগান্তকারী আবিষ্কার এখনও ল্যাবের অন্দরেই রয়েছে । আরও বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা বাকী । ল্যাব থেকে বের হয়ে , ব্যবহারিক প্রকল্পে এই আবিষ্কার কতটা কাজ করে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন । অন্যদিকে , প্ল্যাস্টিকের বদলে যাওয়া রূপ হিসেবে জল স্বাগত হলেও , কার্বন ডাই অক্সাইড কতটা বাতাসের দূষণ পরিমান বৃদ্ধি করবে ,সেটাও ভাববার বিষয় ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!