ব্যাঘ্রদর্শনের জঙ্গল সাফারির প্রতি গাড়ির ব্যবধান থাকবে ন্যূনতম ৫০০ মিটার : সমস্ত টাইগার রিসার্ভকে কড়া চিঠি ধরালো এনটিসিএ |The4thcolumn

নিউজ ডেস্ক ,দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ ফেব্রুয়ারি’২০২০ :-

জঙ্গলে গিয়ে ব্যাঘ্রদর্শন । তা সে যে অবস্থাতেই হোক না কেন, বনের রাজার দেখা পাওয়া উপভোগ্য ও লোভনীয় সকল স্তরের মানুষজনের কাছেই । বাঘের রাজকীয় স্পর্ধার কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ হাতি-হরিণ-বাইসন -গন্ডার প্রভৃতি তামাম বন্য প্রাণ মহল । বাঘের টিকি , থুড়ি লেজের দেখা পেলেই বড় মিয়ার আরও কাছে , প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়া বিশালাকায় লেন্স ক্যামেরাধারী কিংবা পাঁচ ইঞ্চির মোবাইল বাগানো অতি উৎসাহী পর্যটকদের গাড়ির ভীড়ের দৃশ্য যারপরনাই সুপরিচিত । পঞ্চাশ -ষাট টি জঙ্গল সাফারির গাড়ির ঘেরাটোপে চুপটি করে বসে বিরক্তির হাই তুলছে এক ডোরাকাঁটা হলুদ শ্বাপদ এবং সাফারির গাড়ির নিরাপদ আসনে বসে-দাঁড়িয়ে তৃষিতের ন্যায় বাঘমামার দিকে ঠাঁয় চেয়ে আছে বন জঙ্গল ‘এনিম্যাল’ প্রেমীর দল, এ দৃশ্য সমধিক পরিচিত এবং বাঘ ছাড়াও প্রভুত পরিমাণ বিরক্তি উদ্রেককারী ছবি পরিবেশ প্রেমী মহলে । এবার তাদের জন্য সুখবর ও পর্যটকদের জন্য দুঃখের সংবাদ নিয়ে এলো ‘ন্যাশনাল টাইগার কনসার্ভেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ‘ । টাইগার রিজার্ভ তকমা পাওয়া জঙ্গলে কারসাফারির নির্দিষ্ট নিয়মাবলী নির্দেশ করে এক কড়া ফরমান জারি করেছে এই স্ব-শাসিত সংস্থা । এনটিসিএ’র নির্দেশ , জঙ্গলে যাওয়া পর্যটক বোঝাই প্রতিটি গাড়ির মধ্যে ব্যবধান থাকতে হবে কমপক্ষে ৫০০ মিটার এবং বাঘ দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গাড়ির ভীড় বাড়িয়ে বাঘ মামাকে তিতিবিরক্ত করে তোলা , পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে । এনটি সি এ’র তরফে এই নির্দেশ নামা ইতিমধ্যেই (১২ ফেব্রুয়ারি) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশের প্রতিটি টাইগার রিজার্ভ এ (ব্যাঘ্র প্রকল্পে) । এবং অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করবার চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে সমস্ত টাইগার রিসার্ভের ক্ষেত্ৰীয় অধিকর্তাদের হাতে ।

গভর্মেন্ট অফ ইন্ডিয়ার মিনস্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট , ফরেস্ট ও ক্লাইমেট চেঞ্জ ‘এর আওতাধীন ‘ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অফ ইন্ডিয়া’ । দেশের ব্যাঘ্রকুলের (চিড়িয়াখানার নয় , সংরক্ষিত বনাঞ্চলের) রক্ষণাবেক্ষণের ভার ন্যস্ত যাদের দায়িত্বশীল কাঁধে , তাদের তরফে এডিশনাল ডি জি এফ (প্রজেক্ট টাইগার ) ও এনটিসি এ’র মেম্বার সেক্রেটারি ড: অনুপ কে নায়েকের হস্তাক্ষর সম্বলিত এই চিঠি , যা প্রকারান্তরে ফরমান , তা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে দেশের সমস্ত টাইগার রিসার্ভে । জঙ্গলে সাফারিরত পর্যটক বোঝাই গাড়ির ভীড় বাঘের স্বাভাবিক পদচারনায় রীতিমত ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে এবং তাতে টাইগার রিসার্ভের উদ্দেশ্য ও বিধেয় বিঘ্নিত হচ্ছে , এই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করেই জঙ্গলে প্রতিটি সাফারিকারের একে অপরের মধ্যে ব্যবধান ন্যূনতম ৫০০ মিটার রাখবার নির্দেশ দিয়েছে এনটিসিএ ।

এনটিসিএ ‘র কাজ টাইগার রিসার্ভের উত্তরোত্তর শ্রী বৃদ্ধি করা । ক্রমশ কমে যাওয়া বাঘের সংখ্যা বাড়িয়ে বাঘ সংরক্ষণ করা । টাইগার রিজার্ভ গুলো তাদের নির্দেশ নিয়মাবলী মেনেই বাঘ সংরক্ষণের কাজকর্ম করে থাকে । দেশের জঙ্গলে বাঘ নিয়ে শেষ কথা বলে এনটিসিএ । কিন্তু এই দুই গাড়ির মধ্যে ন্যূনতম ৫০০ মিটারের ব্যবধান রাখার নির্দেশ কতটা বাস্তব সম্মত হবে সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে । যেখানে টাইগার রিজার্ভ এ বাঘ দেখার জন্য প্রতিদিন শয়ে শয়ে গাড়ি ঢোকে ,সেখানে এক একটি গাড়ির মধ্যেকার দূরত্ব ৫০০ মিটার রাখা আদৌ সম্ভবপর হবে কিনা এবং তার বাস্তবায়ন করলে বাঘ দর্শন ভিত্তিক পর্যটন কোন পথে যাবে , এর উত্তর এই মুহূর্তে কারো জানা নেই ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!