নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ :-

সোমবার অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ সহায়তা নিগমের রজত জয়ন্তী উদযাপন ও বার্ষিক সম্মেলন । সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে , কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগ্য নেতৃত্বে ভারত সমগ্র বিশ্বের কাছে ‘সার্বিক বিকাশ ও ইতিবাচক অগ্রগতির’ এক আদর্শ অনুকরণীয় রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। শ্রী নাকভি আজ নতুন দিল্লীতে জাতীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ সহায়তা নিগমের রাজ্য শাখা সংস্হাগুলির রজত জয়ন্তী উদযাপন ও বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ভারত সংখ্যালঘু মানুষের কাছে স্বর্গ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে পাকিস্হান সংখ্যালঘু মানুষের নরকে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমাজের আর্ত প্রত্যেকের কাছে সুলভে গুণগতমানের শিক্ষা, কর্মসংস্হানমুখী দক্ষতা এবং মৌলিক পরিকাঠামোর সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। উদ্দেশ্য কর্মসংস্হানমুখী দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সহ সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের আর্থিক ক্ষমতায়ণই এর উদ্দেশ্য।
জাতীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ সহায়তা নিগমের মাধ্যমে বিগত পাঁচ বছরে ৮ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি সুফলভোগীকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিকাশে সহজ শর্তে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মোদী সরকারের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম দিন থেকেই তাঁর মন্ত্রক সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও আর্থিক ক্ষমতায়ণে নিরলস কাজ করে চলেছে বলে শ্রী নাকভি জানান। শিক্ষা ব্যবস্হার মূল ধারার সঙ্গে মাদ্রাসাগুলিকে যুক্ত করতে এক কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় ১৫০ জন মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষিকাকে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ছয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১০ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রীকে প্রাক্ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক পরবর্তী, মেধা তথা সংস্হান সহ অন্যান্য বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৫ কোটি ছাত্রছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত ৫ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩ কোটি ১৮ লক্ষ পড়ুয়াকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই বালিকা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দক্ষ শিল্পী ও বিশেষজ্ঞদের কর্মসংস্হান তথা উপযুক্ত বিপণনে সুবিধা প্রদানে আগামী দিনে কলকাতা সহ দেশের অধিকাংশ বড় শহরে হুনার হাট আয়োজন করা হবে।
সারা দেশে ওয়াকফ সম্পত্তির ১০০ শতাংশ ডিজিটালকরণে সাফল্য অর্জিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে শ্রী নাকভি জানান দেশে নথিভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। এই ওয়াকফ সম্পত্তিগুলির ভৌগলিক অবস্হান চিহ্নিতকরণ ও ডিজিটালকরণের লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এক কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, সমাজের কল্যাণে এধরণের সম্পত্তির সদ্ব্যবহার।