ডেঙ্গি আক্রান্ত তালিকায় শীর্ষে গুজরাত : কেন্দ্রীয় ভেক্টর বর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের রিপোর্ট |The4thcolumn

নিউজ ডেস্ক ,দ্য ফোর্থ কলাম, ১৫ ডিসেম্বর’১৯ :-

ভারতে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগী সংখ্যার তালিকায় প্রথম স্থানে গুজরাত, দ্বিতীয় কর্নাটক । ধারাবাহিকভাবে দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানে থাকার পরে কর্ণাটক এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই বছরের জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত গুজরাটে সর্বমোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৬,৫৬৫ টি এবং কর্ণাটক ১৫,৯৯৯ সংখ্যা সামান্য নিয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ভেক্টর বর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের (এনভিবিডিসিপি) তথ্য অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তর জেনারেলের কাছে কর্ণাটকে এ বছরের জানুয়ারী থেকে ১৫,২৩২ জন এবং গুজরাটে এই সময়ের মধ্যে ১৪,৮৩ জন আক্রান্তের সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এনভিবিডিসিপি’র এক প্রবীণ কর্মকর্তা বলেছেন, “এই দুই রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সামান্য পরিবর্তনের সাথে ওঠানামা করছে। তবে এটি সত্য যে এই দুটি রাজ্যই এই বছর ডেঙ্গির জন্য তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে । ”

কর্ণাটকে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২০১৪ সালে ৩,৩৫৮ থেকে ২০১৭ সালে বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭,২৬৫ । ২০১৭ সালে কর্ণাটক তামিলনাড়ু ও কেরালার চেয়েও পিছিয়ে ছিল | ওই দুই রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৩,২৯৪ এবং ১৯,৯৭৩ । কর্ণাটকে ২০১৮ সালে ৪,২২৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের কথা জানা গেছে ।

কর্ণাটকের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গিজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চারগুণ বেশি বেড়েছে। এ বছর ১১ ই ডিসেম্বর অবধি ১ ১৬,০২০ টি নজির রিপোর্ট করা হয়েছে এবং যার মধ্যে ৮,৯৮৫ টি ঘটনা বিবিএমপি অঞ্চল থেকে ।

২০১৭ সালে, ভেক্টর-বাহিত রোগটি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ে এবং কর্ণাটকের ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। এই বিস্তার সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক কতৃক বিশেষজ্ঞদের একটি দল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে রাজ্যের সফরে পাঠানো হয় । যদিও রাজ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকরা দাবি করেছেন যে, পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত উদ্বেগজনক নয় এবং কেস সংখ্যা গত এক মাসে হ্রাস পাচ্ছে, যদিও হাসপাতালগুলি থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ভেক্টর বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি সংক্রমণ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি অপরিকল্পিত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, অনুপযুক্ত জলের সঞ্চার এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ডেঙ্গির সমস্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

আগে মনে করা হতো বর্ষার সময়ে ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, যদিও এটি এখন একটি ভাইরাল জ্বর হয়ে দাঁড়িয়েছে যা সারা বছরই কমবেশী প্রভাবশালী । ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টি মশা পরিস্কার জলে প্রজনন ঘটায় এবং সাধারনত দিনের বেলা কামড় দেয়।

Leave a Reply

error: Content is protected !!