প্রতিবেদন https://the4thcolumn.com Thu, 28 Jan 2021 17:25:53 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.4.2 161066102 স্মৃতির সরনী বেয়ে ১২৩ বছর : ভারতে পা রেখেছিলেন ‘ভগিনী নিবেদিতা’ : ফিরে দেখলেন কণাদ দাশগুপ্ত | The4thcolumn https://the4thcolumn.com/nibedita-smriti-charon-kanad-dasgupta/ https://the4thcolumn.com/nibedita-smriti-charon-kanad-dasgupta/#respond Thu, 28 Jan 2021 17:24:04 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=13870 বিশেষ প্রতিবেদন ,২৮ জানুয়ারি’২০২১ :-


—-ভগিনী নিবেদিতা

আজ ২৮ জানুয়ারি,২০২১ ।

আজ থেকে ঠিক ১২৩ বছর আগে, ১৮৯৮ সালের আজকের দিনেই মোম্বাসা জাহাজ নোঙর ফেলে কলকাতা বন্দরে। সেদিনই ভারত ভূমিতে পা রাখলেন এক আইরিশ তরুণী, নাম, মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। এদেশ বা এ রাজ্যের মানুষ অবশ্য তাঁকে চেনেন তাঁরই গুরুদেব স্বামী বিবেকানন্দের দেওয়া নামে, আজও মানুষের হৃদয়ে গাঁথা সেই নাম, ভগিনী নিবেদিতা। ১২৩ বছর আগের আজকের দিনেই কলকাতার জাহাজঘাটায় নেমেছিলেন ভগিনী নিবেদিতা।

উনিশ শতকের শেষ ভাগ। লন্ডনের বিদগ্ধ মহলে শিক্ষিত এবং সুবক্তা হিসেবে বেশ পরিচিত লাভ করেছেন এক আইরিশ তরুণী শিক্ষিকা। সেই সময়েই বিখ্যাত সেসেমি ক্লাবের এই সদস্যার বক্তৃতার প্রশংসা করেছিলেন বার্নার্ড শ, টমাস হাক্সলির মতো দার্শনিক। চার্চের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন সমাজসেবাতেও। এভাবেই চলছিলো, কিন্তু কঠোর ধর্মচর্চার মধ্যেও কোথাও যেন ফাঁক থেকে যাচ্ছে, শান্তি পাচ্ছে না তাঁর জিজ্ঞাসু মন।

সময়টা ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাস। ওয়েস্ট-এন্ডের এক বাড়িতে এক বাঙালি সন্ন্যাসীর দর্শন পেলেন তিনি। গেরুয়া বসনধারীর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ ওই তরুণী। এক অজানা আকর্ষণে ওই সন্ন্যাসীর পর পর সব আলোচনা চক্রে যোগ দিলেন ওই তরুণী। যেন তাঁর আকুল মন খুঁজে পেয়েছে দশের সেবায় আত্মনিবেদনের সঠিক পরিসর, যার নাম ভারতবর্ষ। পরিব্রাজক সন্ন্যাসীর কাছে মনের ইচ্ছা প্রকাশেও দেরি করেননি তিনি।
কিন্তু বিষয়টা এত সহজ দাঁড়ালো না৷ ওই সন্ন্যাসী নিজের দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল৷ তাই ওই তরুণীর ইচ্ছাকে উৎসাহ দিলেন না৷ তবে হাল ছাড়েননি তরুণী। কিছুদিন পর এক চিঠিতে পরিব্রাজক তাঁকে জানালেন ভারতবর্ষের বাস্তব পরিস্থিতি। দারিদ্র্য, কুসংস্কার, দাসত্ব, অস্পৃশ্যতা, এমনকী দারুণ গরম ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অভাবের কথাও। শেষে অবশ্য লিখলেন, ‘এসব সত্ত্বেও যদি তুমি কর্মে প্রবৃত্ত হতে সাহস করো, স্বাগত তুমি, শতবার স্বাগত।’ শেষ বাক্যটিকে পাথেয় করেই তৈরি হলেন ওই আইরিশ-কন্যা। আর ওই পরিব্রাজক হলেন স্বামী বিবেকানন্দ ৷

বছর দুয়েক পর এল সেই দিন৷ তারিখ ছিলো, ১৮৯৮ সালের ২৮ জানুয়ারি। ভারতবর্ষের মাটি স্পর্শ করলেন এক ভিনদেশি তরুণী, নাম, মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। এদেশ তাঁকে চেনে ‘ভগিনী নিবেদিতা’ নামে৷ নিজের দেশ, পরিবার-পরিজন ত্যাগ করে মার্গারেট চলে আসেন ভারতে। স্বামী বিবেকানন্দের কাছে ভারতের ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য, জনজীবন, সমাজতত্ত্ব, প্রাচীন ও আধুনিক মহাপুরুষদের জীবনকথা শুনে মার্গারেট ভারতকে চিনে নেন। ভারতে আসার কয়েক দিন পরই রামকৃষ্ণ পরমহংসের সহধর্মিণী সারদা দেবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
এদেশের তৎকালীন পরিস্থিতি তথা দেশবাসীর কষ্ট প্রত্যক্ষ করার পর নিবেদিতা ব্রিটিশ-বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের নিয়ম অনুসারে মঠের সঙ্গে যুক্ত কেউই রাজনীতিতে জড়াতে পারতো না। ফলে মিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কত্যাগ করতে হয় নিবেদিতাকে। যদিও সারদা দেবী ও রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের সঙ্গে তাঁর আমৃত্যু সুসম্পর্ক বজায় ছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় গোপনে বিপ্লবীদের সাহায্য করতে শুরু করেন নিবেদিতা। তখন অরবিন্দ ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র বসু প্রমুখ বিশিষ্ট ভারতীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও তাঁর পরিচয় ঘটে। পাশাপাশি নিবেদিতা চালিয়ে যান মডার্ন রিভিউ, দ্য স্টেটসম্যান, অমৃতবাজার পত্রিকা, ডন, প্রবুদ্ধ ভারত, বালভারতী প্রভৃতি পত্রিকায় ধর্ম, সাহিত্য, রাজনীতি, সমাজতত্ত্ব, শিল্প ইত্যাদি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার কাজ৷ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে ‘কালী দ্য মাদার’, ‘ওয়েব অফ ইন্ডিয়ান লাইফ’, ‘ক্রেডল টেলস অফ হিন্দুইজম’, ‘দ্য মাস্টার, অ্যাজ আই শ হিম’ ইত্যাদি।

১৮৯৮ সালেরই নভেম্বর মাসে
বাগবাজারের ১৬, বোসপাড়া লেনের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন
নিবেদিতা৷ বাগবাজারের গিরিশ অ্যাভিনিউ থেকে ডান দিকে ঢুকে বোসপাড়া লেনের পাঁচ কাঠা জমির উপরে ওই বাড়িতে দু’টি উঠোন, কিছুটা অংশ দোতলা, বাকিটা একতলা। নিবেদিতা তাঁর লেখায় এই বাড়িটিকে হিন্দু স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন বলেই উল্লেখ করেছেন। মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য তিনি এই বাড়িতেই মেয়েদের একটি স্কুল খোলেন, বর্তমানে যার নাম, রামকৃষ্ণ সারদা মিশন ভগিনী নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়। নিবেদিতার ডাকে এই ১৬, বোসপাড়া লেনের বাড়িতে একাধিক বার এসেছিলেন মা সারদা।

অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নিবেদিতা। হাওয়া বদলের জন্য জগদীশচন্দ্র বসু ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দার্জিলিঙে বেড়াতে যান নিবেদিতা। ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর দার্জিলিঙে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪৪ বছর।

লেখক — কণাদ দাশগুপ্ত , একজন জার্নালিস্ট ।
* ছবি সৌজন্য –অন্তর্জাল

]]>
https://the4thcolumn.com/nibedita-smriti-charon-kanad-dasgupta/feed/ 0 13870