পরিবেশ https://the4thcolumn.com Mon, 20 May 2019 12:02:24 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.1.1 161066102 নিশ্চুপ বনবিভাগের নিষেধনামাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে চলছে নদীদূষণ : ফুঁসছে জৈন্তিবাসী https://the4thcolumn.com/environment-jainti-river-bed-pollution/ https://the4thcolumn.com/environment-jainti-river-bed-pollution/#respond Thu, 02 May 2019 10:29:43 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=662 জারুল রাভা,আলিপুরদুয়ার,২ মে’১৯ :-

সবুজ কংক্রিটের প্রমান সাইজের সাইন বোর্ড , তাতে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে নিষেধাজ্ঞা । নদীবক্ষে নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার নিষিদ্ধ । নিষেধ রয়েছে খোলা আকাশের নীচে মদ্যপানেও । এবং বারণ রয়েছে সাউন্ড বক্স বাজানোতেও । এই সকল নিষেধ নামা বড় বড় হরফে টানিয়ে রেখেছে বক্সা বন দপ্তর । এমনকি , জংগলে গাইড নিয়ে ঘোরাঘুরির অনুমতি পত্রেও স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে নির্দেশাবলী । ‘প্রাইভেট কার’ নিয়ে কোনোমতেই নামা যাবে না নদী খাতে । কিন্তু , বন বিভাগের এই নিষেধাজ্ঞাকে আক্ষরিক অর্থেই বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে “উল্লাস ” পালন করছেন কতিপয় পর্যটক । এই ভাবেই অরাজক এক পরিস্থিতির শিকার হয়ে চলেছে ‘ডুয়ার্স রানী ‘ জৈন্তি । যথেচ্ছাচারের শিকার হচ্ছে জৈন্তি নদীবক্ষ । রিভার বেডে চলছে উদ্দাম লীলা । এবং হাত গুঁটিয়ে বসে থাকা বনবিভাগের নীরবতা দেখে ফুঁসছেন সাধারণ জৈন্তি বাসী । অভিযোগ , হেলদোল নেই বন বিভাগের ,ফলে প্রতিনিয়ত এভাবেই আইন ভাঙছেন কিছু পর্যটক এবং দূষিত হচ্ছে জৈন্তি নদী , ভুগছেন সাধারণ মানুষ থেকে বন্য প্রাণ ।

ফি বছর পাথুরে পলিতে উপচে পড়ছে জৈন্তি নদী । জনপদ ও নদী বক্ষের উচ্চতা প্রায় সমান হয়ে এসেছে । বর্ষার নদী উপচে জল ঢোকে বাড়িঘরে । দেওয়া হয়েছে বাঁধ । এই সমস্যা নিয়ে বছরভর টেনশনে রয়েছেন জৈন্তিবাসী এবং যারা বাইরে থেকে আসছেন , একসময় তাদের ফেলে দেওয়া আবর্জনা ও পিকনিকের দৌরাত্মে পুতিগন্ধময় পরিবেশের বলি হয়ে ছিল জৈন্তি নদী । রিভার বেড়ে রাত হলেই ,,অনেকসময় প্রকাশ্য দিনের আলোতেই , গাড়ির দরজা খুলে চলত অবাধ মদ্যপানের আসর । শুধু পানাহার হলে সমস্যা ততটা হতো না । সেই সঙ্গে ছুঁড়ে ফেলা হতো কাঁচের বোতল , তাতে প্রাণ সংশয় হয়ে উঠেছিল ঘন জঙ্গলের মাঝের এই জনবসতি জৈন্তির বন্য প্রানের । কয়েকবছর আগে নোটিশ দিয়ে পিকনিক বন্ধ করবার পাশাপাশি ,নদীখাতে “প্রাইভেট কার” নিয়ে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ । প্রথম প্রথম মেনে চললেও , সে নিষেধাজ্ঞা এখন শুধুমাত্র সাইন বোর্ডে টিকে রয়েছে বলেই অভিযোগ তুলে সুরাহা সূত্র দাবী করেছেন জৈন্তির বাসিন্দারা ।

মে দিবসের বিকেলে, এন্তার ‘ প্রাইভেট গাড়ির দল”, বীরবিক্রমে নদী বক্ষে নেমে “আনন্দ” করছে , এই দৃশ্য প্রতিবেদকের চোখ চমকে দিলেও , তিতিবিরক্ত মনোভাব দেখালেন জৈন্তি বাসী । স্থানীয় বাসিন্দা আপ্পল নাইডু , সরোষে জানান, “অনুমতি পত্রে শীল মোহর দিয়ে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে , নদীখাতে নামার পথের ধারে প্রমান সাইজের সাইন বোর্ডেও স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা লেখা রয়েছে । কিন্তু , নিজের চোখেই তো দেখছেন , কত গাড়ি রিভার বেড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ” ।
নদী খাতে মদ্যপান চলে , নদীর পরিবেশ শেষ হয়ে যাচ্ছে । ভাঙা বোতলের কাঁচ পড়ে থাকছে নদীখাতে , তাতে হাতি সহ অন্যান্য বন্য প্রানের চরম ক্ষতি হয়ে যায় । স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ‘রক্ত ক্ষরণ’ হয় , জানিয়েছেন তিনি । তবে সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে । ধরা পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারাই বন বিভাগের হাতে তুলে দেন মদ্যপদের । কিন্তু , বন বিভাগের কড়া নজরদারি থাকলে এ সমস্যা থাকত না , দাবি করেছেন তারা ।

কেন শুধুমাত্র অনুমতি পত্রে নিষেধ নামা উল্লেখ করে এবং নদীতীরে নিষেধাজ্ঞা টানিয়ে দায়িত্ব খালাস করেছে বন বিভাগ ? কেন বনকর্মীদের এই আইন ভাঙার খেলায় কোনো নজরদারি নেই ? উত্তর সম্ভবত একটাই । কম সংখ্যক বনকর্মী , জৈন্তির বনাঞ্চলে তাদের বন টহলের কাজ করতে হয় । এবং রয়েছে জৈন্তি গেটে পর্যটকদের প্রবেশ পত্রে সিল-ছাপ্পা দেওয়ার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কাজ । নদীতে পর্যটকরা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে নেমে কি করছেন ,তা দেখার আর ‘কর্মী’ কোথায় ? সময়ই বা কোথায় ?

কিন্তু , তাহলে কি এভাবেই বিনা বাধায় , ধীরে ধীরে কখনো উন্মুক্ত পানশালা , কখনো মাঝ নদীখাতে দাঁড় করানো গাড়ি ঘিরে মিউজিকের তালে তালে হালকা খাবার সহযোগে মৃদু নাচ ইত্যাদির সাক্ষী থেকে ছুঁড়ে ফেলা ‘মদের বোতলের’ কাঁচের ‘ডাস্টবিন ‘ হয়ে উঠবে ,ডুয়ার্স রানী জৈন্তির সেরা আকর্ষণ , জৈন্তি নদীবক্ষ ? উত্তর দেবে সময় , বলাই বাহুল্য ।

]]>
https://the4thcolumn.com/environment-jainti-river-bed-pollution/feed/ 0 662
বাঘমামার মেনুতে মেইনকোর্স : বক্সা বাঘবনে আসছে জলদাপাড়ার ৫০ সম্বর https://the4thcolumn.com/environment-btr-sambar/ https://the4thcolumn.com/environment-btr-sambar/#respond Mon, 29 Apr 2019 19:32:11 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=635 জারুল রাভা ,আলিপুরদুয়ার,৩০এপ্রিল’১৯ :-

রাজার ভোজ বলে কথা ! কাঁকড় হরিণ (বার্কিং ডিয়ার) ও গাউর (ইন্ডিয়ান বাইসন) তো রয়েছেই যথেষ্ট পরিমাণে । কিছুদিন আগে ছাড়া হয়েছিল শতাধিক চিত্রল হরিণও । কিন্তু এই তিন তৃণভোজীর পরেও , অনুষ্ঠান বাড়ির মেনুকার্ডের ”মেন কোর্সে” যেমন কচি নধর পাঁঠা ছাড়া বাঙালীর রসনা তৃপ্ত হয় না , তেমনি হলুদ কালো ডোরাকাটার রাজকীয় খাদ্য তালিকা সম্পুর্ন করতে এবার পালা সম্বরের । বাইসন থেকে স্পটেড ডিয়ার হয়ে বার্কিং ডিয়ার ও নয়া আইটেম সম্বর হরিণ , এদের প্রত্যেকের মধ্যে রয়েছে খানিক মিল । এরা সকলেই চিহ্নিত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাদ্য হিসেবে । প্রায় ৭৬২ বর্গ কিমির দুর্ভেদ্য(?) বক্সা বাঘ বন , তাতে বিগত দুই বছর ধরেই আসবে আসবে করছেন রাজাধিরাজ বাঘ মহোদয় । তাঁর মহারাজীয় খাদ্য তালিকায় যাতে কোনরূপ টানাটানি না পড়ে ,তা নিয়ে সদা ব্যগ্র বনবিভাগ । মাথার উপর রয়েছে ‘জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ পর্ষদ ‘ কড়া নজরদারি নিয়ে । বাঘের চলাফেরা থেকে ঘুম , বংশ রক্ষা থেকে আয়েশের ভোজ , কোনোকিছুতেই যেন লেশমাত্র কমতি না থাকে ,সে বিষয়ে পাতাজোড়া ‘এক -দুই-তিন’ নির্দেশিকা রয়েছে তাদের । এবং সেসব ‘এক-দুই-তিন’ নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললে তবেই মিলবে “বাঘ” , পুষ্ট হবে এই বাঘ-ভূমি , নামের প্রতি হারিয়ে যাওয়া সুবিচার ফিরে পেয়ে, ফের ‘বাঘময়’ হবে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প । তার পরিপ্রেক্ষিতেই এবারের তালিকায় রয়েছে প্রমান সাইজের সম্বর হরিণ । সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ৩ /৪ মে ‘র মধ্যেই জলদাপাড়া থেকে পাকড়াও করে খান পঞ্চাশেক সম্বরের বাসস্থান বদলে দিতে চলেছে বনবিভাগ । জলদাপাড়ার ৫০ সম্বরের ঠাঁই হতে চলেছে বক্সার বাঘ বন ।

বনবিভাগ সূত্রের খবর , দু এক দিনের মধ্যেই জলদাপাড়ায় শুরু হবে সম্বর কবজার কাজ । এরপর দ্রুত তাদের ট্রাকে তুলে আনা হবে বক্সার জঙ্গলে । বেছে রাখা হয়েছে বক্সা বনের ২৩ মাইল থেকে ২৫ মাইল কোর জঙ্গল এলাকা , যাতে সযত্নে গড়ে তোলা হয়েছে ঘাস বন , জানিয়েছেন বক্সা বাঘ বনের শীর্ষ কর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত । প্রথম দফায় ছাড়া হবে ৫০ সম্বর , পরবর্তীতে আসবে আরও , বাঘের খাদ্যের যোগান দিতে ।

কিন্তু , বক্সা বাঘ বনে তো পর্যাপ্ত পরিমাণে বাইসন (গাউর) , বার্কিং ডিয়ার কিংবা কিছুদিন আগে নিয়ে আসা স্পটেড ডিয়ার রয়েছে । এরপরেও সম্বর কেন ? বনবিভাগের একাংশ বলছে , বক্সার জঙ্গলে বার্কিং ডিয়ার কিংবা বাইসনের সংখ্যা ঠিক কতটা সেটা নির্দিষ্ট করে জানা যায় নি । বাঘের খাদ্যের পরিমান হিসেবে বাইসন বা বার্কিং ডিয়ার কম হলেও হতে পারে । অন্যদিকে জলদাপাড়া মাত্র ২১৭ বর্গ কিমির আয়তন , তাতে সম্বরের সংখ্যা খানিক বেড়েছে । এবং সর্বোপরি , বক্সার জঙ্গলে মুক্ত করা স্পটেড ডিয়ার বেশ দ্রুতগামী , তুলনায় গড়ে ১৮০ কিলোর মাংস যুক্ত সম্বর চলাফেরায় অনেকটাই শ্লথ । তাতে বাঘের ‘শিকারে’ সুবিধা হবে । দৌড়ঝাঁপ না করেই খাবার পেয়ে যাবেন বাঘ মামা । সে কারণেই বক্সা বাঘ বনে আসছে পেল্লাই সাইজের খান পঞ্চাশেক সম্বর । এমনটাই বলছে ওয়াকিবহাল মহল ।

বাইসন আছে , আছে বার্কিং ডিয়ার । চকিত পদচারণা নিয়ে রয়েছে স্পটেড ডিয়ার । এবং এর সঙ্গে এবার যুক্ত হতে চলেছে ৫০ টি হষ্টপুষ্ট সম্বর হরিণ । বক্সা বাঘ বনে ক্রমশই জেল্লা বাড়ছে ‘বড়েমিঞা ‘র খাদ্য সম্ভারের ।
কিন্তু “তিনি” আসবেন কবে ? সরিষ্কা-পান্নার খাতায় প্রায় নাম ওঠানো এই ব্যাঘ্র প্রকল্পের জেল্লা বাড়াতে ?

]]>
https://the4thcolumn.com/environment-btr-sambar/feed/ 0 635
ক্ষত নিরাময়ে প্রকৃতি মা : অপয়া চেরনোবিল এখন সবুজ অভয়ারণ্য https://the4thcolumn.com/environment-chernobyl-moumita-dutta-roy/ https://the4thcolumn.com/environment-chernobyl-moumita-dutta-roy/#respond Mon, 29 Apr 2019 13:45:05 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=628 প্রাণের প্রথম জাগরণে স্বয়ংসিদ্ধা প্রকৃতি : ‘অপয়া’ চেরনোবিল এখন বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য …
–মৌমিতা দত্ত রায়

চেরনোবিল,ইউক্রেন-একটি অজানা মৃত্যুর শহর। অনেকের কাছেই এই নামটি পরিচিত নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা বিস্ময়কর এবং অদ্ভূতুরে ছবির মাধ্যমে।সোভিয়েত ইউনিয়নের অধ্যুষিত ইউক্রেনের একেবারে উত্তর সীমান্তে বিশাল এক পারমানবিক শক্তিকেন্দ্রের নাম ‘চেরনোবিল পারমানবিক শক্তিকেন্দ্র।’চারটি পারমানবিক চুল্লি মিলিয়ে তৈরী করা হয় এই শক্তিকেন্দ্রটি।পরবর্তীকালে এখানে যারা কাজ করতে আসে তাদের সুবিধার জন্য ‘প্রপিয়াট’ নামে একটি অত্যাধুনিক শহর তৈরী করা হয়।কিন্তু পরিকল্পনা আর তার বাস্তবায়নের মধ্যে দূরত্ব তৈরী করে দেয় দুঃসহ ইতিহাস।

দিনটি ছিল ২৬শে এপ্রিল।সারাদিনের ব্যস্ততার শেষে নিভু নিভু বাতির তলায় তখন ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রপিয়াট।রাত প্রায় ১টা ২৩ মিনিট। ভুল রিঅ্যাক্ট ডিজাইন এবং ভুল অপারেটিং রেগুলেশনের ফলে চেরনোবিল চতুর্থ নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে ঘটে যায় নিউক্লিয়ার বিপর্যয়।প্রায় দশদিন ধরে বিষাক্ত পারমানবিক উপাদান ছড়িয়ে পরে বাতাসে।সরকারী হিসেব অনুযায়ী,প্রথম তিন মাসে ৩১ জন মৃত্যু বরণ করেন। পরবর্তীকালে ২৩৭ জন মানুষ পারমানবিক বিকিরণের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হন এবং তাদের মধ্যে ছিল প্রায় ছয় লক্ষ শিশু। সমগ্র এলাকাবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।থাইরয়েড ক্যান্সারের প্রায় ৬ হাজার ঘটনাকে চেরনোবিল বিপর্যয়ের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। আজও ওই বিদ্যুত কেন্দ্রের চারদিকে ৩০ মাইল পর্যন্ত এলাকায় মানুষের বসবাস নিষিদ্ধ রয়েছে । যার ফলে সভ্যনগরী চেরনোবিল পরিণত হয়েছে কার্যত এক পোড়াভূমিতে ।

আজ থেকে ত্রিশ বছর আগের সেই দিনটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমানবিক দুর্ঘটনা (?) হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।অপয়াভূমি এখন সম্পূর্ণই জনমানবশূন্য একটি এলাকা।ইতিহাস বরাবরই মানুষকে ভাবিত করে তাড়িত করে। আবার সেই সঙ্গে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিও ঘটে।একসময় যে স্থানে অরণ্য নিধন করে আধুনিকতার মোড়কে মুড়িয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ঝাঁ চকচকে একটি শহর, আজ সেখানেই সাযুজ্য বজায় রেখে বেড়েই চলেছে জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য।এককালের উচ্চাকাঙ্খী শিক্ষিতদের চারণভূমি পরিণত হয়েছে পশু-পাখির অভয়ারণ্যে।

বাইরের কোনোরকম সাহায্য ছাড়াই পশুপাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিণত হয় এই জায়গা।এ যেন প্রকৃতির নিজেই নিজেকে স্বয়ংসিদ্ধ করে তোলা। জীব বিজ্ঞানীগণ প্রায় ৫ সপ্তাহব্যাপী একটি পর্যবেক্ষণ কর্মকান্ড পরিচালনা করেন এই জঙ্গলে। তাঁদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে বন্যপ্রাণীর ছবি।ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী যার মধ্যে রয়েছে ১টি বাসিন্দা, ২১টি বন্য শূকর, ৯ টি ব্যাজার, ২৬ টি ধূসর নেকড়ে ও ১০ টি শেয়াল সহ বিভিন্ন ধরনের পাখি,ফড়িং,ভোমরা,
মাকড়সা। মজার ব্যাপার হল, ১৯৯৮ সালের দিকে সেবালস্কিস নামে ইউক্রেনের বিশেষ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি ঘোড়াকে এই অঞ্চলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং এর ফলও বেশ সন্তোষজনক।

মানবসভ্যতার শৈশবের সেই ভীষণদিনগুলি থেকেই প্রকৃতি আগলে রেখেছে জীবকুলকে।অথচ কী কৃতঘ্ন মানুষ ! সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সে ছিন্ন করেছে অকৃত্রিম সম্পর্ক।তবে প্রকৃতি তার হিসেবের পাওনা কড়ি বুঝে নিতে বদ্ধপরিকর।চেরনোবিলের সবুজ পুনরুজ্জীবন যেন তারই ইঙ্গিত বহন করে এবং একথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে,’মনুষ্য-সরণ হলে প্রকৃতির স্ফুরণ ঘটে।’ চেরনোবিলের ভয়ঙ্কর এই তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের পরেও ক্রমবর্ধমান জীব বৈচিত্রই এই তত্ত্বের সপক্ষে এক জোরালো প্রমাণ।

–লেখক একজন সাহিত্যনুরাগী ও অন্ত্রেপ্রেনোর ।

]]>
https://the4thcolumn.com/environment-chernobyl-moumita-dutta-roy/feed/ 0 628
কুড়ি বছরে অসাধ্য সাধন : ৪ মিলিয়ন গাছে ফিরল আস্ত জঙ্গল https://the4thcolumn.com/environment-salgado-forest/ https://the4thcolumn.com/environment-salgado-forest/#respond Wed, 24 Apr 2019 16:06:50 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=538 “There is a single being, which can transform CO2
to oxyzen, which is the tree ” –Sebastiao Salgado

‘কান্ট্রি রোড টেক মি হোম …’- ডেনভার চলছে মৃদু সুরে , ফিসফিস করে । সালটা ছিল ১৯৯৪ , ব্রাজিলের প্রান্তিক জনপদ মিনাস গেরাইস । বাড়ি ফিরছেন সালগাদো । বিষন্ন এক যুবক , একজন ফটো জার্নালিষ্ট । দ্য গার্ডিয়ানের হয়ে ‘আরওয়ান্ডা জেনোসাইড ‘ কভার করতে গিয়ে মনের দফারফা করে ফিরছেন । মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী ছিলেন , গ্রাস করেছে প্রবল ট্রমা । মন সারাতে ভগ্নহৃদয় নিয়েই ফিরছেন তার বাল্য ভূমিতে । কিন্তু , সুবিশাল বন ঘেরা তার আদরের স্বদেশে পা দিয়েই সেদিন চমকে গিয়েছিলেন সালগাদো । যতদূর চোখ যায় ,ততদূর ঊষর প্রান্তর । ছিটেফোঁটা চিহ্ন নেই গাছ গাছালির , নেই পাখীর কলতান কিংবা ঝিঁঝির একটানা বিশ্রামহীন ডাক । নেই কোনো জীবজন্তুর চকিত পদচারণ । এক সময় যেটা ছিল দুর্ভেদ্য জঙ্গল ,আজ তা খাঁ খাঁ করছে । এই বিশাল শূন্যতার হাহাকারের সামনে দাঁড়িয়ে সেদিন কি বলেছিলেন ম্যাসাকারের ট্রমায় ঘেরা এক নিউজ ফটোগ্রাফার ও তার স্ত্রী ? লাতিন আমেরিকার মানুষ না হয়ে এ বাংলার মানুষ হলে হয়তো বলতেন ” দাও ফিরে সে অরণ্য , লও এ নগর ” । সাংবাদিককতার পেশায় ক্রমাগত পিষতে থাকা মানুষটি , প্রকৃতি মায়ের স্নেহের পরশ পেতে ছুটে এসেছেন স্বভূমিতে , তিনি কথায় নয় , কাজে বিশ্বাসী । জেদ চাপল । এক আপাত অবাস্তব জেদ । এক অসম্ভব সাধনের লক্ষ্য রাখলেন । ঠিক করলেন , যে অরণ্য ছিল , যে অরণ্য হারিয়ে গেছে , তা যে ভাবেই হোক প্রকৃতির কোলে ফিরিয়ে দিতে হবে । এবং তারপরের ঘটনা ইতিহাস । কুড়ি বছর পর সেই ঊষর প্রান্তর আজ সবুজ ঘন জঙ্গল । ফের তাতে পাখী গান গায় , বন্য প্রাণ ঘর বাঁধে , কীটপতঙ্গ মাটি কামড়ে পড়ে থাকে । ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে আজ ২০১৯ সালে ফিরেছে জঙ্গল , লাগিয়েছেন প্রায় ৪ মিলিয়ন গাছ । সারা বিশ্ব কুর্নিশ করেছে সেবাস্তিয়াও রিবেরিও সালগাদো ও তার সহধর্মিনী ললিয়া দেলুইজ ওয়ানিক সালগাদো’কে ।

শুরুটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না । একটি মাইল যোজন ব্যাপী জঙ্গল ‘তৈরি’ করবেন শুনেই হেসে উঠেছিলেন আশেপাশের মানুষ । সালগাদোর কপালে জুটেছিল ‘পাগলের’ তকমা । গণহত্যার নিউজ কভার করতে গিয়ে ‘মাথাটা’ একেবারেই গিয়েছে ভেবে সালগাদো’কে পাশ কাটিয়ে দিয়েছিলেন তারা । কিন্তু স্ত্রী ললিয়া পাশ ছাড়েন নি । সালগাদোর কথায় , ” প্যাশনেট ও ডেডিকেটেড মানুষরা চাইলে অসাধ্য সাধন করতে পারে । পারে বননিধনকে , বনসৃজন দিয়ে ভরিয়ে দিতে “।

‘বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি , যেটা একখান ট্রপিক্যাল রেন ফরেস্ট ছিল , সেটা গাছ জীবজন্তুহীন । আমার মতোই ভগ্ন মনোরথ ও অসুস্থ , দেখে কান্না পেয়ে গিয়েছিল ‘ – সেদিনের কথা এভাবেই বলেছেন সালগাদো । তবে হাল ছাড়েন নি । বরঞ্চ হাল ফেরাতে জমি হাল দিয়েই শুরু করেছেন তার দুর্দমনীয় জেদের রূপকথা ।
পরিবারের কাছ থেকে একজোড়া বলদ নিয়ে শুরু করলেন জমি কর্ষন । প্রায় পতিত জমি । খুঁজে বের করলেন সমমনস্ক মানুষদের । তাদের নিয়ে গঠন করলেন একটি ছোট্ট সংস্থা , নাম দিলেন ‘ইনস্টিটিউটো টেরা ‘ । এবং তার আগে তালিকাভুক্তি করলেন পূর্বেকার উদ্ভিদ কুলের । সালগাদর বয়ানে , ” আপনাকে প্রথমে আগেকার জঙ্গলের চরিত্র বুঝে নিতে হবে । জেনে নিতে হবে কি ধরনের গাছ পালা এখানে ছিল । নইলে যে কোন গাছ রোপন করলে কোনো বন্যপ্রাণ ফিরবে না । বনসৃজন হয়তো হবে , তবে জঙ্গল নিস্তব্ধ থাকবে “।

১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করেন কিশলয় রোপন । সংখ্যাটা ছুঁয়ে যায় ৪ মিলিয়ন । যে জঙ্গলকে কেড়ে নিয়েছিল নাগরিক সমাজ , সে জঙ্গল ‘পুনরুজ্জীবিত’ করতে সালগদো পাশে নিয়েছেন হারিয়ে যাওয়া জঙ্গল নির্ভর মানুষদের । যারা বনবাসী ,তারাই এগিয়ে এসেছেন তার পাশে দাঁড়াতে । সালগাদো বলেন, “জঙ্গল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে । আমাদের মানুষের কথা শুনতে হবে । প্রকৃতি মানে এই পৃথিবী ও তার প্রাণীজগত । আমরা যদি এই গ্রহকে এক আধ্যাত্মিক প্রতিদান দিতে না পারি , তবে তা হবে নিজের সঙ্গে আপোষ করা “।

ইউনাইটেড নেশনের ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের সমীক্ষা বলছে , ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যাবধি হারিয়ে গেছে প্রায় ১২৯ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি । পরিমাপে যা সাউথ আফ্রিকার সমান । লোপ হচ্ছে বাসস্থান ,নিত্যদিন । প্রতিবছর লুপ্ত হচ্ছে নানা প্রজাতির প্রাণী , হারিয়ে যাচ্ছে গাছ পাখী কীট পতঙ্গ । বছর -কে- বছর পানামা দেশের সমান সবুজ বনানী পরিণত হচ্ছে এক খন্ডহরে । দায়ী বন ছেদন । দায়ী তার ফলে উৎপন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমাগত নির্গমন । দায়ী মানুষের প্রাচুর্যের লালসা । আয়ু কমছে পৃথিবীর । এবং তা রোধ করবার পথ দেখিয়েছেন সালগাদো । হিসেব কষে ,ধৈর্য্য ধরে বনসৃজন । এভাবেই ফিরতে পারে প্রকৃতি । উদাহরণ রেখেছেন সালগাদো ।

এই মুহূর্তে , সালগাদোর ‘তৈরী ‘ জঙ্গলে ফিরেছে ১৭২ প্রজাতির পাখি । ফিরেছে ৩৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী । রয়েছে ২৯৩ প্রজাতির গাছ গাছড়া । রয়েছে ১৫ প্রজাতির সরীসৃপ , ১৫ প্রজাতির উভচর ও অসংখ্য কীটপতঙ্গ । এককথায় ফিরে এসেছে একটি জঙ্গল তার পরিশীলিত বাস্তুতন্ত্র নিয়ে । কুড়ি বছরের অধ্যবসায় রয়েছে যার ব্যাকগ্রাউন্ডে ।

সালগাদো ও ললিয়া দেখিয়েছেন অসাধ্য সাধনের পথ । বাঙালী নির্নিমেষ চেয়ে থাকে সুমনের ভাষায় ,’আমি চাই গাছ কাটা হলে শোকসভা হবে বিধানসভায় ‘। কিন্তু , ‘ আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি ‘ উচ্চারণ না করে , মাঠে নেমে জীবনের কুড়িটি বছর সে কি দিতে পারবে ? যেমন গোটা জীবন দিয়ে পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়েছিলেন দশরথ মানঝি ।। যেমন দিয়েছেন সালগাদো ! প্রকৃতি মায়ের কোলে একটি অরণ্য ফিরিয়ে দিয়ে !

]]>
https://the4thcolumn.com/environment-salgado-forest/feed/ 0 538