দক্ষিণবঙ্গ https://the4thcolumn.com Wed, 08 May 2019 05:54:51 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.1.1 161066102 মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি : গাড়ি থেকে নেমে পাল্টা ‘চ্যালেঞ্জ’ মমতার https://the4thcolumn.com/south-bengal-mamta-taunting-public/ https://the4thcolumn.com/south-bengal-mamta-taunting-public/#respond Sat, 04 May 2019 13:09:36 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=720 নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম ,৪ মে’ ১৯ :-

মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে টিপ্পনীর সুরেই ‘জয় শ্রী রাম ‘ ধ্বনি ছুড়ে দিয়েছিল ‘রামভক্ত’ কতিপয় জনতা । গাড়ি থামিয়ে তাদের পাল্টা ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়লেন তিনি এবং মুখ্যমন্ত্রী নামতেই পালালো ‘জয় শ্রীরাম ‘ স্লোগান ছুড়ে দেওয়া পাবলিক । ঘটনায় শোরগোল পড়েছে রাজ্য জুড়ে । খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এহেন ‘আচরণ ‘নিয়ে নিন্দা মুখর হয়েছে রাজনৈতিক মহল এবং যথারীতি ভাইরাল হয়েছে এই ২৩ সেকেন্ডের ভিডিও ।

ঘটনায় প্রকাশ ,পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ব্লকের রাধাবল্লভপুরে রবিবার এই ‘অপ্রীতিকর ‘ ঘটনার সামনে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । পিচঢালা রাস্তা দিয়ে তার কনভয় যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে । ভিডিও তে দেখা যায় , মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চলছে ধীর গতিতেই । সাদা স্কর্পিওর সামনের আসনে বসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । পথের পাশে তখন মহিলাদের ভীড় । সে সময়ই হঠাৎ “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি ছুঁড়ে দেয় জনকয়েক ব্যক্তি । আচমকাই দাঁড়িয়ে পড়ে মমতার গাড়ি । গাড়ি থেকে সটান নেমে পড়েন মমতা । তাকে নামতে দেখেই পিঠটান দেয় টিপ্পনি কাটা ব্যক্তিরা । মমতা নেমেই স্লোগান ধারীদের ডাকতে শুরু করেন , “আয় ! আয় ! পালাচ্ছিস কেন ! সব হরিদাস ! ” এরপর তার মুখে আশ্চর্য সূচক স্বগতোক্তি শোনা যায় , ‘ এরা গালাগাল দিচ্ছে !’ । সম্ভবত , তার রাজ্যে , খোদ তাকে লক্ষ্য করে এহেন টিপ্পনি উড়ে আসবে , তা বোধহয় কল্পনার অতীত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ।

অন্যদিকে , ‘জয় শ্রী রামের ‘ ধ্বনি উড়ে আসায় , ঘটনায় অভিযোগের তির ঘুরছে বিজেপির দিকে । তবে যাই হোক না কেন , ভোট চলাকালীন এই ঘটনা ঘিরে আপাতত স্বাভাবিক গুঞ্জন বাংলা জুড়ে ।

]]>
https://the4thcolumn.com/south-bengal-mamta-taunting-public/feed/ 0 720
সরকারী কর্মচারীদের ৫২ টি শনিবার আছে ,আমাদের নেই : স্কুলছুটি পেয়েও ট্রোলিংএ তিতিবিরক্ত শিক্ষককূল https://the4thcolumn.com/south-bengal-school-closed-teacher-asked-questions/ https://the4thcolumn.com/south-bengal-school-closed-teacher-asked-questions/#respond Fri, 03 May 2019 12:10:09 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=706 জারুল রাভা , আলিপুরদুয়ার, ৩ মে ‘ ১৯ :-

অবশেষে ধোঁয়াশা কাটল রাজ্যের স্কুল -ছুটির চাপান উতোরে । শিক্ষা দপ্তরের তিন নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে ‘স্কুল সাস্পেনশন ‘ এর বদলে ‘স্কুল ক্লোজড’ জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনীশ জৈন । এবং এই চার দফার স্কুল ছুটির আওতায় যে শিক্ষককূলও থাকছেন ,সে ব্যাপারেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী । অন্যদিকে , প্রায় দু মাসের এই স্কুল ছুটিতে পঠন পাঠন শিকেয় উঠবে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া ট্রোলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে শিক্ষক সমাজ । ২০০৫ সালের আগে যেখানে বছরে ৯০ দিনের ঘোষিত ছুটি দেওয়া হতো , বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দিনে , এই তথ্য সামনে রেখে তারা বিমর্ষ মনোভাব জানিয়েছেন ।
শুক্রবার নবান্ন থেকে তিন নম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল ছুটির ব্যাপারে ‘অবস্থান ‘ স্পষ্ট করে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর । বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি পয়েন্ট তুলে ধরে চার দফায় স্কুল ছুটির ঘোষণা জানান দিয়েছে নবান্ন । এক, ‘ফণীর’ কারণে ৩ মে ও ৪ মে , এই দুদিন রাজ্যের সমস্ত সরকারী / সরকারী অর্থানুকূল্যে / সরকারী অর্থানুকূল্যের বে সরকারী স্কুল গুলোকে বন্ধ রাখবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । দুই , আগামী ৬ মে থেকে ২০ মে অবধি দাবদাহের কারনে স্কুল বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে । তিন , ২০ মে থেকে ৮ জুন অবধি প্রতিবছরের ন্যায় ‘গরমের ছুটি’ থাকবে বলে জানানো হয়েছে এবং চতুর্থত , ৮ জুনের পরবর্তী সময়ে , আবহাওয়া খারাপ থাকবার সম্ভবনার দরুন ফের ৩০ জুন অবধি স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এবং এই চার নম্বর ছুটি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে । প্রশ্ন , আগাম বুঝে নেওয়া খারাপ আবহাওয়ার দরুন দেওয়া এই ৮ জুন থেকে ৩০ জুনের ছুটির সিদ্ধান্ত পরেও নেওয়া যেত ।

অপরদিকে , প্রায় এই ষাট দিনের ছুটির প্রসঙ্গে তির্যক শ্লেষের ছোড়াছুড়ি চলছে সোশ্যাল মিডিয়ার জনমানসে । শিক্ষকরা বসে বসে মাইনে নেবেন ইত্যাদি বক্রোক্তি ঘুরছে টাইমলাইনে । এতে বিষম চটেছেন শিক্ষকরা । তাদের বক্তব্য , বছরে আগে ৯০ দিনের ছুটি দেওয়া হতো স্কুলে , এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৫ দিনে । যে ছুটি দেওয়া হলো , সেটা শিক্ষকরা চায় নি । ফণী, দাবদাহ ও সম্ভাব্য খারাপ আবহাওয়ার দরুন সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে । তার ফলে ছুটির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে বছরে ৯৫ দিনে । এটাতে কতটা মহাভারত অশুদ্ধ হলো ,তা বোধগম্য নয় , জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক । এবং তুলনা টেনেছেন সরকারী কর্মচারীদের সঙ্গে । তাদের বক্তব্য , সরকারী কর্মচারীরা শনিবার ছুটি পান , সে হিসেবে করলে বছরে ৫২দিন ছুটি আমরা শিক্ষকরা পাই না । তাদের আর্ন লিভ আছে , তারা ছুটি বিক্রি করতে পারেন । এসব হিসেব কেন কেউ রাখে না ? ক্ষোভ ঝরছে শিক্ষক মহলে ।

]]>
https://the4thcolumn.com/south-bengal-school-closed-teacher-asked-questions/feed/ 0 706
ফণীর ফণা নাকি গরমের ছুটি : নবান্নের দুই বিজ্ঞপ্তিতে ধোঁয়াশা শিক্ষকমহলে : কণাদ দাশগুপ্তের বিশেষ কলাম https://the4thcolumn.com/special-column-kanad-dasgupta-school-closer-or-suspension-circuler-nabanna/ https://the4thcolumn.com/special-column-kanad-dasgupta-school-closer-or-suspension-circuler-nabanna/#respond Thu, 02 May 2019 21:08:16 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=698 নবান্নের ‘ঘোষণা’নিয়ে ধোঁয়াশা ! ফণীর ভয় নাকি গরমের ছুটি ? স্কুল ‘ছুটি’ নাকি ‘সাসপেনশন ‘ ? শিক্ষকরা কি পূর্ন ছুটি পাচ্ছেন নাকি আগলে রাখতে হবে ছাত্রছাত্রীবিহীন স্কুল ?
— বিশেষ কলামে কণাদ দাশগুপ্ত

তাহলে রাজ্যে স্কুল ছুটির বিষয়টা ‘আপাতত’ কোথায় দাঁড়িয়ে ? ‘আপাতত’ কথাটা সচেতনভাবেই ব্যবহার করা। ছুটি নিয়ে ৪-৫ ঘন্টার মধ্যে ২ ধরনের কথা জানা গিয়েছে রাজ্য প্রশাসনের কাছ থেকে। পূর্ণ সম্ভাবনা আছে, আরও ২-৪ ধরনের ‘ঘোষণা’ হতে পারে।

২ মে, বৃহস্পতিবার, দুপুরে রাজ্য সরকার এক নির্দেশিকায় জানায়, সরকারপোষিত স্কুলে গরমের ছুটি এগিয়ে আনা হল। ৩ মে থেকে তা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। এ বছর প্রায় ২ মাস চলবে গরমের ছুটি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গরমের ছুটির সঙ্গেই রাজ্য সরকার ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’-র বিষয়টিকেও জুড়ে দেয়।
নবান্নের জারি করা এই স্কুল ছুটির বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে শিক্ষক-অশিক্ষক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়, বিভ্রান্তিও শুরু হয়ে যায়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয় ‘ক্লাস সাসপেন্ডেড’। ধোঁয়াশা এখানেই। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা বুঝতে পারেন না, একদিকে বলা হচ্ছে গরমের ছুটি বাড়ানো হলো, আবার বলা হচ্ছে ছুটি নয়, ‘ক্লাস সাসপেন্ডেড’ ! তাহলে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্য ঘোষিত ওই সময়টা ছুটি থাকবে ? নাকি ‘ক্লাস সাসপেন্ডেড’ বলে তাঁদের স্কুলে যেতে হবে ? ৪ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গরমের ছুটি ? নাকি, ‘ছুটি’ নয়, শুধুই ‘ক্লাস সাসপেন্ডেড’ ?

এসব ধোঁয়াশা না কাটিয়েই ২ মে, বৃহস্পতিবার, রাতে রাজ্য সরকার দ্বিতীয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়,
আগামী শুক্র এবংশনিবার, ৩ মে এবং ৪ মে, শুধুমাত্র দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলা, দুই মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি এবং কলকাতার সমস্ত সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। দ্বিতীয় এই বিজ্ঞপ্তির কোথাও গরমের কথা বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী’র তাণ্ডবে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাহলে কী দাঁড়ালো ? কয়েকটি প্রশ্ন এখনও থেকে গেলো। দুপুরের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে রাতের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে? নাকি, দুপুরের গরমের ছুটির বিজ্ঞপ্তিটিও
যথারীতি বহাল আছে ?

দু’টি বিজ্ঞপ্তি, একটিতে প্রায় ২ মাসের জন্য পড়ুয়াদের গরমের ছুটি, অপরটিতে ৮ জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের জন্য দু’দিনের ছুটি? তাহলে প্রকৃত ছুটি কোথায় কোথায় এবং কতদিন ?

আর একটি ছোট্ট কথা, নবান্ন রাতের বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, ঘূর্ণিঝড়ে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার জন্যই ‘স্কুল ছুটি’।
প্রশ্ন ওঠে , কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টা কোন দফতর দেখে ? নাকি, ওরা নিরাপদ থাকবে, এ বিষয়ে নিশ্চিত নবান্ন !

]]>
https://the4thcolumn.com/special-column-kanad-dasgupta-school-closer-or-suspension-circuler-nabanna/feed/ 0 698
ফণীর ভয়ে স্কুল ছুটির নির্দেশ : ৩০ জুন অবধি থাকছে বন্ধ https://the4thcolumn.com/south-bengal-fani-school-closed/ https://the4thcolumn.com/south-bengal-fani-school-closed/#respond Thu, 02 May 2019 12:30:36 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=680 নিউজ ডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম , ২ মে’১৯ :-

আসছে ফণী । সাবধান করেছে আবহাওয়া দপ্তর । আয়লার থেকেও নাকি ভয়ংকর এই ফণী । ঘন্টায় দেড়শ থেকে দুশ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার গতিবেগ আছড়ে পড়বার সম্ভাবনা রয়েছে এই বিধ্বংসী ঝড়ের । এবং ফণীর কারনে সতর্ক হয়ে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুল গুলোকে “গরমের ছুটিতে” পাঠালো রাজ্য শিক্ষা দপ্তর । ৩ মে থেকে আগামী ৩০ জুন অবধি প্রাথমিক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ‘ ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারী এডুকেশন” । চিঠি পাঠানো হয়েছে “ডিপি এস সি’ কে ।
সূত্রের খবর , অত্যাধিক গরমের কারনে এই সময় ‘গরমের ছুটি ‘দিয়ে থাকে শিক্ষা পর্ষদ । কিন্তু , এখনো সে গরম স্পর্শ করেনি বাংলাকে । বদলে বাংলা কাঁপছে ‘ফণীর’ ভয়ে । ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারী এডুকেশনের’ সেক্রেটারী আর সি বাগচী চিঠি দিয়েছেন ডি পি এস সি ‘কে । চিঠিতে স্পষ্ট “ফণীর” নাম উল্লেখ করে স্কুল গুলোকে “গ্রীষ্মের ” ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

প্রসঙ্গত , ভয়ঙ্কর গতিতে এগিয়ে আসছে ফণী। আয়লার থেকে বিধ্বংসী এই ঝড় তাণ্ডব চালাবে রাজ্যেও। তার জন্য সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে রাজ্য সরকার।  আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে ফণীর প্রভাবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের জেলা গুলিতে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুই মেদিনীপুর  ও হাওড়ায়  প্রবল ঝড়বৃষ্টি হবে। দুই ২৪ পরগনা ও কলকাতায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দিঘা, বকখালি এবং মন্দারমণিতে সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মাইকিং করে দিঘা সহ উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে সতর্ক করা হচ্ছে।
আগামী শুক্রবার বাংলায় আঘাত আনতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফনি।এর আগেই এই বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল আবহাওয়া দপ্তর। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দু-একটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আগাম বার্তা দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর।উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার,কোচবিহারের কোনও কোনও জায়গায় ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল।
এবারে ফের সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের তরফে।আগামী শুক্রবার বাংলায় আঘাত আনতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফনি ,বলে জানানো হয়েছে।

]]>
https://the4thcolumn.com/south-bengal-fani-school-closed/feed/ 0 680
আমি রসগোল্লা পাঠাই , কিন্তু তাদের জন্য একটিও ভোট নয় : মোদীকে মিষ্টি জবাব মমতার https://the4thcolumn.com/south-bengal-momota-jabab-sweet/ https://the4thcolumn.com/south-bengal-momota-jabab-sweet/#respond Thu, 25 Apr 2019 07:38:28 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=555 নিজস্ব সংবাদদাতা , কলকাতা, ২৫ এপ্রিল’১৯ :-

“আমি রসগোল্লা পাঠাই , উপহার দিই । এটা আমাদের বাঙালী সংস্কৃতি । কিন্তু তাদেরকে (পড়ুন মোদী) একটাও ভোট নয়” – প্রধান মন্ত্রীর নাম না করেই বৃহস্পতিবার জবাব ছুঁড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এদিন , হুগলীতে প্রচার চলাকালীন মোদীকে বার্তা ফেরত দিয়েছেন মমতা ।
প্রসঙ্গত , বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিরোধীদের সঙ্গে তার সৌজন্যের আদানপ্রদানের কাহিনী প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদী । বাংলাদেশের শেখ হাসিনার দেখাদেখি মমতাও যে তাকে বছরে দু একবার কুর্তা ও মিষ্টি উপহার পাঠান সেটা সুকৌশলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মোদী । তাঁর এই বক্তব্যে মুচকি হাসিসহ ফিসফাস শুরু হয় দেশের প্রতিটি মহলে । এদিন হুগলীতে তার পরিপ্রেক্ষিতেই ‘এটা বাঙালী কালচার , আমি এভাবে অনেককেই মিষ্টি উপহার দিই ‘ জানিয়ে ভোট নিয়ে যে কোনো আপোষের বালাই নেই ,সেই কথাই সপাটে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।
এর সঙ্গে মোদীকে নিশানায় এনে মমতা জানান, আপনি জোর করে ডিমনিটেজেশন করেছেন , কালো টাকা সাদা করেছেন এবং এখন সে টাকায় ভোট কিনছেন । কিন্তু বাংলায় তা মুখ থুবড়ে পড়বে ।

]]>
https://the4thcolumn.com/south-bengal-momota-jabab-sweet/feed/ 0 555
পুলিশী আক্রমণের প্রতিবাদে স্তব্ধ আদালত : শুনানি বন্ধ ৫০ মামলার https://the4thcolumn.com/adalot-bandh-kol-jalp/ https://the4thcolumn.com/adalot-bandh-kol-jalp/#respond Thu, 25 Apr 2019 07:13:10 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=551 নিজস্ব সংবাদদাতা ,জলপাইগুড়ি, ২৫ এপ্রিল’১৯ :-


বুধবার হাওড়ায় পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণের ফলে জলপাইগুড়ি কোলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের বার এসোসিয়েশন এর তরফে কর্মবিরতি পালন হল আজ। এদিন সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবীদের কর্মবিরতি ফলে আজ জলপাইগুড়ি কোলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের বিমল গুরুং মামলাসহ প্রায় পঞ্চাশটি মামলার শুনানি আজ বন্ধ থাকল।

]]>
https://the4thcolumn.com/adalot-bandh-kol-jalp/feed/ 0 551
হাওড়া স্টেশনে উদ্ধার নদীয়ার নোডাল অফিসার অর্ণব : রহস্য উন্মোচনের অপেক্ষা https://the4thcolumn.com/south-bengal-arnab-rahosyo/ https://the4thcolumn.com/south-bengal-arnab-rahosyo/#respond Thu, 25 Apr 2019 05:55:42 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=548 নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা,২৫এপ্রিল’১৯ :-
রহস্যের আপাত যবনিকা পতন , উদ্ধার হলেন নদীয়ার নোডাল অফিসার অর্ণব রায় । এদিন হাওড়া স্টেশন থেকেই তাকে উদ্ধার করে পুলিশ । পুলিশ ই সিআইডি সূত্রের খবর, মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেই অর্ণব রায়ের সন্ধান পাওয়া গেছে । তবে , নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন , কিভাবেই বা হাওড়া স্টেশন অবধি এলেন , তা এখনো রয়েছে ধোঁয়াশায় । প্রাথমিক শুশ্রূষার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আপাতত এই ‘অন্তর্ধান’ রহস্যের কুলকিনারা করছে পুলিশ প্রশাসন ।

]]>
https://the4thcolumn.com/south-bengal-arnab-rahosyo/feed/ 0 548
মুগা-বালুচরি : হারিয়ে যেতে বসা হাওড়ার জরি শিল্পের খোঁজে : সুদীপ্ত মাজি’র বিশেষ কলাম https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dakkhin-bango-jori-shilpo-khoj/ https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dakkhin-bango-jori-shilpo-khoj/#respond Sat, 13 Apr 2019 13:40:28 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=405 ‘আর কত বালুচরি মুগা ও রেশমকাজে ভরে থাকে স্মৃতি ‘ : হাওড়ার জরিশিল্প –দু’এক কাহন
সুদীপ্ত মাজি

ঝুঁঝকো অন্ধকার নেমে আসছে চারপাশে। জমির আল ধরে সরু পথ ঢুকে গেছে গ্রামীণ জনপদের ভেতর। একটু আগেই অস্তরবির শেষ আলোয় শান্ত পল্লীশ্রীর এক নিরূপম রূপ জেগে উঠছিলো চারপাশে। উৎসাহের বশবর্তী হয়ে হাওড়া জেলার একটি প্রত্যন্ত জনপদ নলপুরের পরামানিক পাড়ার দিকে এগিয়ে চলল আমাদের এগারো নম্বর। না, কোনও স্থানীয় যানবাহন চলে না এপথে।অগত্যা হাঁটাই ভরসা। অন্ধকার হাঁটাপথে পৌঁছে গেলাম সুশীল পরামানিকের বাড়ি। ঘরভর্তি নানা উপকরণের সমারোহের ভেতর বসে একমনে ঢাড্ডার ওপর ঝুঁকে কাজ করে চলেছেন তিনি। 

হাওড়ার সুপ্রাচীন জরিশিল্পে ‘ঢাড্ডা ‘ অত্যন্ত পরিচিত একটি শব্দ। ঢাড্ডা আসলে একটি চারকোণবিশিষ্ট কাঠের ফ্রেম। কাঠের অভাবে বাঁশ দিয়েও তৈরি হয় এটি। এর ওপরেই কাপড় সেট করে জরির কাজ করা হয়ে থাকে। দশ নম্বর ছুঁচ বা আরির সাহায্যে রেশম বা সুতোর কাজ করে থাকেন ওস্তাগররা। মালপত্র রাখার জন্য মজুত থাকে একটুকরো বস্ত্র, যাকে ‘বেগম’ বলা হয়। খাকার নকশা অনুসারে ছুঁচ দিয়ে ফুটো করে নেওয়ার পর তা কাপড়ের ওপর বসিয়ে কেরোসিন মিশ্রিত লাভা মাজন দিয়ে মোলায়েম করে ঘষে দেওয়া হয়। ফুটোর ভেতর দিয়ে নেমে আসা মিশ্রণ কাপড়ের ওপর পড়ে নকশার ছাঁচটি ফুটে উঠলে সুদক্ষ ওস্তাগর ছুঁচের জাদুতে সেই ডিজাইনকে জরিতে ফুটিয়ে তোলেন। পরিচিত পোশাকের মধ্যে জর্জেট, লেজার ইত্যাদি সিন্থেটিক শাড়ির ওপর দপকা, সলমার কারুকাজ করা ছাড়াও ল্যাঙ্গা অর্থাৎ ঘাঘরা, চুননি, পিলা -চুন্দরি, কুর্তা -চুড়িদার, সালোয়ার-সুট ইত্যাদির ওপর জরির সুনিপুণ শিল্পসৌকর্য জেগে ওঠে কারিগরের সনিষ্ঠ অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে। অধুনা জরিশিল্পে মহিলা কারিগরের সংখ্যাই অবশ্য বেশি।

জরিশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসংখ্য মানুষের দুঃখ -সুখের বারমাস্যা কোনও অংশেই কোনও জীবন-নিষ্ঠ উপন্যাসের চেয়ে কম মর্মস্পর্শী নয়! জরিশিল্পীর চোখের জলে জেগে থাকা লবণ-ই যেন বা তাদের হাতের কারুকাজের লাবণ্যের ভেতর দিয়ে জেগে ওঠে। তাদের না-বলা কথার ঘন যামিনীর মাঝে ভেসে থাকে তাদের নিতান্ত সাদামাটা দুঃখদিনের রক্তকমল! একুশ শতকের ব্যস্ততর জীবনযাপনের ঘোড়দৌড়ের ভেতর ক’জন দরদীই বা সেই অশ্রুসজল স্বরলিপির সন্ধান রাখতে পারেন!

লেখক — কবি ও বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক

]]>
https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dakkhin-bango-jori-shilpo-khoj/feed/ 0 405
মহানগরের শিখন্ডী : পুরুষ লালসা থেকে বাঁচতে বৃহন্নলা সেজে ঘুরে বেড়ায় পরিবারহীন মেয়ে https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dakkhinbango-mahanogorer-shikhandi/ https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dakkhinbango-mahanogorer-shikhandi/#respond Sat, 13 Apr 2019 05:45:25 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=399 একমাত্র উদাহরণ রেখেছিলেন মহাভারতের অম্বা । কার্যকারণের নিশানায় ছিল প্রতিশোধ । কিন্তু ইজ্জত রক্ষায় সে একই পন্থা পথে গমন , সম্ভবত সে উদাহরণ নেই ভু ভারতে । আজকের পুরুষ শাসিত সমাজের ভোগ লালসা থেকে সেই পথ ধরেই নিজেকে রক্ষা করে চলেছে এক মেয়ে । প্রতি নিয়ত যেখানে মর্ষকামী চোখ কিংবা স্পর্শকামী শিশ্ন অথবা দিবালোকের অন্ধকার – ধর্ষণ লিপ্সা খুঁজে বেড়ায় , সেখানে এক পরিবারহীন মেয়ে নিজের ‘ইজ্জত’ বাঁচাতে খুঁজে নেয় অভিনব পন্থা । ঘুরে বেড়ায় হিজড়ে সেজে । সে জেনে গেছে , হিজড়েদের ‘ইজ্জত’ লুঠের কোনো ভয় নেই !
সামাজিক ধর্ষণ থেকে বাঁচতে মহানগরের অলি গলি ঘুরে বেড়ায় বৃহন্নলা সেজে ! নিশ্চিন্তে !
এই ‘মহানগরের শিখন্ডী ‘র মর্ম গাঁথা তুলে এনেছে “দ্য ফোর্থ কলাম ” । বিশেষ কলাম শ্রীতন্ময় ঘৃতকৌশিক চক্রবর্তীর !

এক সন্ধ্যা , পদযুগ আর তৃতীয় নয়ন …
তন্ময় ঘৃতকৌশিক চক্রবর্তী

দূরে সরে গেছে শহুরে সবুজ বনশোভা ! শহর’ কলকাতা এখন রুক্ষ , ভরা গ্রীষ্মের দাপটে দু:স্বপ্নসংকুল ! খাঁখাঁ রোদ্দুরে পিচ গলছে ঘামের সঙ্গেই , শহরের রাজপথ আজ সুখের ওপর কারফিউ লাগিয়ে দিয়েছে , ভীড় এ’তো যেন সাঁতার কাটতে বলা হলো পানা পুকুরে ! হুহু করে কানের পাশের বাতাস কেটে সরে সরে যাচ্ছে যতো সব যানবাহন , ব্যস্ত শহরের রাজপথের মুহূর্ত’গুলো যেন অকস্মাৎ থমকে যায় শহরেরই নিজস্ব সিগনাল ব্যবস্থায় ! শহর কলকাতায় আগুনে গরম , রাজপথ আর সাধারণ মানুষের মাঝে খাঁখাঁ করছে পারস্পরিক দ্বন্দ্বে ভোগা মধ্য দুপুর ।

থিকথিকে ভীড়ের ভেতর দিয়ে সাদা উর্দি পড়া পুলিশ ও তাদের ব্যস্ততা, নাব্যতা হারিয়ে যাওয়া জলে ভাসা জাহাজকে সামলানো নাবিকের মতো ! নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে যানবাহন , আমারও ছোট্ট গাড়িটা দাঁড়িয়ে গেল ঘ্যাঁচ করে ! ড্রাইভার কলারটা পিছনের দিকে ঠেলে দিয়েই হতাশায় বলে উঠল ‘ একটুর জন্য বের হতে পারলাম না সিগনাল টা ‘ !

এমন সময়ই গাড়ীর কাঁচে টোকা , উচ্ছ্বল অঙ্গভঙ্গি , ভীষণ রঙ্গের প্রলেপ সারা মুখে , ঠোঁটে আর চোখে এ’তো প্রকট রঙের হাহাকার , মনে মনে বলেই ফেলি ‘ দয়া করো ‘ ! আর কানের দুল দুলিয়ে নিশ্চুপ ঠোঁট নাড়া ! এ ভরা দুপুরে মনে হয় ঘুমে-হেঁটে বেড়ানো মানুষের যেন চলার দৃশ্য !

কি মনে হলো , এদের সম্পর্কে জানি একটু ! রাস্তার ধারে গাড়িটাকে দাঁড় করাতেই , গুটিগুটি পায়ে তারা এলো ! কে ? একদল বৃহন্নলার মধ্যে থেকে দুটি বৃহন্নলা ! এসেই বল্লো ‘ দেখেই বুঝেছি তোমায় , দাও হিরো কটা টাকা দাও ‘ !

‘ কতটাকা আর নিবি ! আচ্ছা তোরা আধঘণ্টার কতটা রোজগার করতে পারিস ‘?
‘ হিরো , সোনা আমার , ভাগ্যের ওপর সব ! এই যেমন তুমি যদি কুড়ি টাকা দাও তবে রোজগারটা একটু বেড়ে যাবে এখুনি ‘ !

‘ একশো করে দুজন’কেই দেবো আর এগরোল খাওয়াবো কিন্তু শর্ত আছে একটা ‘ !
‘ না , বাবু , ওসব পারবো না ! কপাল আমাদের ফাটা ! তোমায় প্রতিদিন দেখি এখান দিয়ে যেতে , ভদ্দরলোক ভেবেছিলুম ! থাক ! বাড়িতে বৌ’য়ের জন্য এগরোল নিয়ে যেও ! আমাদের লাগবেনা ‘ !

আত্মঅভিমান ! কোথাও যেন দুদ্দার মাদল বেজে উঠল ! মগজে যেন মধ্যরাত এসে জাঁকিয়ে বসলো ! ‘ তোদের কাছে কিছু চাই না , শুধু কিছু কথা জিজ্ঞাসা করবো ব্যস ‘ !

চললাম পাশের এক নিরিবিলি চায়ের দোকানে ! সে দোকানে আবার পিছনের দিকে বেঞ্চ পাতা ! বসলাম তিনজনে ! ইতিউতি কথা সেরে শর্মিলা নামে বৃহন্নলা সিগারেট ধরালো ফস করে! তারপর বলে উঠলো ‘ হিজড়া বলে ভেবো না এ’তো বোকার হদ্দ আমরা , যতোটা তোমরা ভদ্রলোকরা ভাবো আমাদের আরকি ! ‘ বলো কি জিজ্ঞাসা করবে , বলছি ! আমরা কি খাই কোথায় থাকি , কিভাবে সেক্স মেটাই এই তো ‘ বলো ‘ !

থতমত খেয়ে যাই ! এ’তো ভীষণ বুদ্ধিমতী !
‘ না ওসব নয় , আগে বল তোর ছোটবেলার কথা ! বাড়ির কথা , বন্ধুদের কথা ‘ !

‘ ওসব জেনে কিছুই হবে না গো ! আচ্ছা তুমি কি লেখো ? তাহলে বলবো ‘ ! পাশের বৃহন্নলাটি তখনও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে ! আয়ত টানা টানা চোখ , ঠোঁটটা নদীর ব্যাঁকা তটের মতো , কপালে একফালি চুল এসে অবাধ্য কিশোরের মতো দাপাদাপি শুরু করেছে ! টু – শব্দ করেনি সে ! চোখের ভেতরের আলোয় যেন আবছা হয়ে আছে অচিন সব ব্যথা !

‘ হ্যাঁ তোদের নিয়ে লিখবো ! তাই ! এই নে টাকা ! শুরু কর ‘ !
‘ শোনো , তোমায় একটা গল্প বলি ! আমি তো আমার নাম বলেইছি , পাশের হিজরার কাঁধে হাত রেখে বলে ওঠে ‘ ওর নাম মিনি , আর রাস্তার নাম পিঙ্কি ! টুকে নাও , ওকে হিজরা সাজিয়ে রেখেছি বটে ওর কিন্তু হিজরা নয় , মেয়ে , মেয়ে গো সাধারন , রোজগারের জন্য ওকে হিজড়া সাজিয়ে ভিক্ষা করাই , তোমরা যাকে রাস্তার জুলুম ভাবো ‘ !’

আমার চোখ কপালে ওঠার তাল ঠুকছে , শর্মিলা আরো বলতে থাকে ‘ এই রাস্তার হিজড়াদের কোনও মূল্য নেই গো ! সবাই সুযোগ পেলেই সেক্সের কথা বলে কানেকানে , বুক কাঁধ ছুঁয়েও নেয় , ওই পর্যন্তই কিন্তু বাড়াবাড়ি কিছু করতে পারে না , আসলে হিজড়াদের ঘেন্না করে প্রায় সবাই , এদিকে পেট কাঁদে হুহু করে , ভিখারীর পেট জানো তো , কিছু পেলেই সাপের মতো মুখ খুলে যায় শরীরের থেকে বড়ো হয়ে !

দোকানদারের বাঁ চোখ নজর রেখেই চলেছে আমাদের ওপর !
‘ তোরা এই ফুটফুটে মেয়েটার এভাবে সর্বনাশ করলি ? কেন রে ‘ !
‘ সর্বনাশ ? বাঁচাচ্ছি বলো ! ওর মা বিইয়েছে ছ’জন কে , তার মধ্যে ওর বাপের দুজন আর অন্য তিনজনের কুকর্মের ফল বাকি চারজন ভাইবোন ! ওর মা’ই ওকে এক বাবুর বাসায় রেখে এসেছিল টাকার বিনিময়ে ! তখন আমরা বাচ্ছা হলেই বাড়িতে গিয়ে নাচাগানা করে টাকা খ্যেচতাম ! তো এমনই একদিনে দেখি জানালা থেকে মুখ বাড়িয়ে এ কাঁদছে ! টলটলে মুখ , বড়ো বড়ো চোখ , হঠাৎ করে কেমন মায়া এসে গেল ভেতরে , আমি ওকে ডাকতেই বল্লো আসতে পারবে না ! তাই কায়দা করে কলের পাইপ দিয়ে উঠে ওর সাথে কথা বলে যা বুঝলাম ওকে ক্রমশ বাবুর ভোগের জন্য তৈরী করা হচ্ছে ! শাল্লা , ভালোবাসা কি সেদিন বুঝলাম ! একদিন ওকে নিয়ে সোজা স্ট্রেশন , তারপর থেকে ও আমাদের ঠ্যেঁকে !

‘ও পারলো তোদের মানিয়ে নিতে ‘?

কেন পারবে না ! ভালোবাসার এক অন্য রকম টান আছে গো , ওর জন্য পাগল আমি , আর ও হবে না পাগল নাকি ! খুব ভালো মেয়ে ও বুঝলে , ওকে বুক দিয়ে যত্ন করি আমি , শুধু ও যা ইনকাম করবে তা থেকে দিনে পঞ্চাশ টাকা আমার ! আমার তো কোনও নেশা নেই ওর টাকা জমিয়ে একটু গাঁজা কিনি ! এক প্যাকেট দুশো পঞ্চাশ , ওই তিনদিন চলে আরকি ! আর জানো ও আমার থেকে এগারো বছরের ছোট্ , এখন ওই আমার প্রেমিকা !

‘ সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে , কি সব বলছিস রে বাপ ! বাবুর হাত থেকে ছাড়িয়ে ওঁকে নিজের জন্য তৈরী রাখছিস ‘ !

‘ আল্লার দিব্যি , এ প্রেমিকা আমার জান , ওর সাথে আমার মনের মিল গো ! ওর জন্য যদি জীবন দিতে হয় তাই দেবো ! জানো তো মিনি আমায় এতোটা ভালোবাসে , আমায় কথা দিয়েছে মৃত্যুর পর ও আমায় কবর দেবে সাধারণ মানুষের মতো ! আমাদের মৃত্যু জন্ম জীবন সব শালা আস্তাকুঁড়ের মতোন ! মারলেই সবাই লাথি ঝ্যাঁটা পেটাতে থাকে যাতে আর এ জন্ম না আসে পরের বার , ও কিন্তু বলেছে আমার মৃত্যুর পর কবর দেবে স্বাভাবিক ভাবে ‘ !

হঠাৎ টার্ণ অফ ! ভ্রু দুটো কুঁচকে বলে শর্মিলা

‘ আজ থাক , পরের গল্প অন্যদিন বলবো , আগে লেখা দেখাবে তারপর ! এটা লিখে দিও আমি ওকে খুব ভালোবাসি , মিনিও আমায় , খুব ! সে সকালের মিছারি ভেজানো জল খাওয়ানো থেকে , রান্নাবান্না , খুঁটিনাটি সংসারের সব আমি করি ! ও শুধু আমায় আদর করে , সেক্স নয় আদর কিন্তু ! এর পরের দিন তোমায় আমার ছোটবেলার কথা জানাবো ! এ্য মা কতোক্ষণ হয়ে গেল ! যাও বাবু যাও , তুমি না গেলে আজ ভাঁড়ার মা ভবানী হয়ে যাবে ‘ !

পকেট থেকে পাঁচশো টাকা বার করে ওর হাতে দিতে যাই , লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে শর্মিলা ! বলে ‘ বাবু , তুমি ভদ্রলোক এটা বুঝেছি বেশ , টাকা দিয়ে লজ্জা দিও না , ও টাকা নিতে পারবো না , হিজরাদের ইমানের প্রশ্ন ‘ !

‘ আরে না না , এটা তো কথাই ছিলো ! নে , পাকামো করিস না ‘ !
বাবু যদি দিতে চাও একটা কথা বলি ? ও মিনি কে একটা রূপোর সিঁদুর কৌটো দিও , ছিনে কাটা চকচকে ময়ূর দিয়ে দিয়ে সাজানো ! ওর বড্ডো শখ , কিন্তু পয়সা জোগাড় হয় আর না ! সংসারে বড্ডো টানাটানি ! আমি মুসলমান হলে কি হবে , মিনি তো হিন্দু , আর আমরা বিয়েও করবো তাড়াতাড়ি লুকিয়ে , তখন ও তোমার দেওয়া রুপোর কৈটো থেকে সিঁদুর পরবে খন ‘ !
চলে গেল দুজনেই ! ওদের চলে যাওয়া পথে রেখে গেল কতকগুলো প্রশ্ন , যা আমায় থতমত খাইয়ে ছাড়লো !
এ সম্পর্ক কি চিরকালীন হবে ? এ সম্পর্কের মধ্যে কি গভীরতা পোক্ত হয়ে আছে , এ সম্পর্ক কি বৈধ ? সামাজিক ?

দুলে উঠলো বুকটা , পরক্ষণেই রোদ আর গান একই স্রোতে ভেসে গেল রাজপথের পাকা পিচের উচ্ছন্নে !! বুকের ভেতর সম্ভাবনাময় এক কবিতা জন্মে গেল , আমার চেনা ঔদাস্য গড়িয়ে পড়লো বেঞ্চের পাশে , কস্মিনকালেও ভাবি’নি লেখার প্রতি প্রিয় আমার অহংকার এভাবে নষ্টরাগ হয়ে উঠতে পারে , সংশয়ে ভুগছি এ কথোপকথন সমাদরে লিখে উঠতে পারবো কিনা ?

মনে পড়লো মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্রে আঙুল উঁচিয়ে শ্রীকৃষ্ণ বলছেন সৌম্যবীর অর্জুন’কে ‘ আত্মবিস্মরণ শুধু পাপ , বাকি সব কালের করাল গ্রাসে লুপ্ত হয়ে যায় বা সময়ের দানে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে ‘ !

আজই রূপোর সিঁদুর কৌটো কিনতে হবে ওদের বিয়ের উপহার হিসাবে , তাই বেঞ্চের মায়া ছেড়ে উঠে পড়লাম ক্লান্ত এক কাঙালের মতো !

– লেখক পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাহিত্য অনুরাগী

]]>
https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dakkhinbango-mahanogorer-shikhandi/feed/ 0 399
নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট : বদলির নির্দেশ নিয়ে কমিশনকে পাল্টা চিঠি মমতার https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dokkhin-bango-mamta-vs-commission-letter/ https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dokkhin-bango-mamta-vs-commission-letter/#respond Sat, 06 Apr 2019 13:05:44 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=239 নিজস্ব প্রতিবেদক , কলকাতা :- নির্বাচন কমিশন বদলির নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের চার পুলিশ আধিকারিককে । এবং প্রত্যাশিত ভাবেই নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব ব্যক্ত করে ‘চিঠি’ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে রাজ্যের মুখ্য সচিব কে চিঠি ধরিয়ে চার পুলিশ আধিকারিকের রদ বদলের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন । সরিয়ে দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা কে এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিং কে । কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধীতা জানিয়ে মমতা চিঠিতে লেখেন, ” কমিশনের এই সিদ্ধান্ত শুধু খামখেয়ালি নয় , উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও পক্ষপাত দুষ্ট । কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে ” । মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি নিয়ে সরগরম রাজ্য এবং অতীতের মীরা পান্ডে কে মনে করিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক কারণেই ভোটের মুখে নয়া মোড় নিয়েছে নির্বাচন কমিশন বনাম মমতা দ্বৈরথ ।

]]>
https://the4thcolumn.com/https-the4thcolumn-com-dokkhin-bango-mamta-vs-commission-letter/feed/ 0 239