ইতিহাস https://the4thcolumn.com Mon, 16 Mar 2026 05:40:04 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.8.2 161066102 আদি গ্রিস থেকে আধুনিক ব্যালট: বিশ্বের বুকে ভোট দেওয়ার অধিকার ও গণতন্ত্রের বিবর্তনের ইতিহাস | The 4th Column https://the4thcolumn.com/news-desk-vote-democracy-born-history-ancient-world/ https://the4thcolumn.com/news-desk-vote-democracy-born-history-ancient-world/#respond Mon, 16 Mar 2026 05:40:04 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=25260 নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৬ মার্চ ২০২৬ :

ভোটের ইতিহাস: ক্ষমতার পালাবদলে জনতার জয়গান
গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম উৎসব হলো ভোট। কিন্তু আজকের এই ব্যালট পেপার বা ইভিএম-এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের লড়াই আর বিবর্তনের কাহিনী। ভোটের ইতিহাস মানেই হলো সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমতা ফিরে আসার ইতিহাস।
প্রাচীন সূচনা: গ্রিস ও রোম
ভোট দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ইতিহাস শুরু হয় প্রাচীন গ্রিসের অ্যাথেন্সে, প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। সেখানে ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র’ প্রচলিত ছিল। তবে তখন আজকের মতো সবাই ভোট দিতে পারত না; কেবল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নাগরিকরাই এই অধিকার পেত। গ্রিকরা অনেক সময় কালো ও সাদা পাথর ব্যবহার করে তাদের মতামত জানাত। অন্যদিকে, প্রাচীন রোমেও সংসদ বা ‘সিনেট’ নির্বাচনের জন্য ভোটের প্রচলন ছিল।
মধ্যযুগ ও ইংল্যান্ডের ম্যাগনাকার্টা
মধ্যযুগে রাজার একচ্ছত্র শাসনের ফলে ভোটাধিকার স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে ‘ম্যাগনাকার্টা’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজার ক্ষমতা সীমিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি ছিল আধুনিক সংসদীয় গণতন্ত্রের এক আদি বীজ। ১৭শ ও ১৮শ শতাব্দীতে ইউরোপে যখন রেনেসাঁ ও আলোকায়ন শুরু হয়, তখন ‘জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো শাসন নয়’—এই ধারণা জনপ্রিয় হতে থাকে।
আধুনিক যুগ ও সর্বজনীন ভোটাধিকার
আধুনিক ভোটের প্রকৃত রূপ তৈরি হয় ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে আমেরিকা ও ফ্রান্সের বিপ্লবের পর। তবে তখনো নারী বা কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটের অধিকার ছিল না। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৮৯৩ সালে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্ণ, ধর্ম ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ নীতি চালু হয়।
ভোটের আধুনিক মাধ্যম
শুরুতে মুখে বলে বা হাত তুলে ভোট দেওয়া হতো। পরে আসে কাগজের ব্যালট। ১৮৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম গোপন ব্যালট ব্যবস্থা চালু করে, যা বিশ্বজুড়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা ইভিএম বা অনলাইন ভোটের যুগে প্রবেশ করেছি।
ভোটের এই দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি ভোট কেবল একটি চিহ্ন নয়, বরং এটি নাগরিকের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

]]>
https://the4thcolumn.com/news-desk-vote-democracy-born-history-ancient-world/feed/ 0 25260
নাদির শাহ: এক সাধারণ রাখাল থেকে পারস্যের অপরাজেয় সম্রাট | The 4th Column https://the4thcolumn.com/news-desk-history-parsian-nadir-shah-2/ https://the4thcolumn.com/news-desk-history-parsian-nadir-shah-2/#respond Mon, 16 Mar 2026 05:34:54 +0000 https://the4thcolumn.com/?p=25254 নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৬ মার্চ ২০২৬ :

নাদির শাহ: এক সাধারণ রাখাল থেকে পারস্যের অপরাজেয় সম্রাট
ইতিহাসে অনেক দিগ্বিজয়ীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকলেও, পারস্যের নাদির শাহের মতো অভাবনীয় উত্থান খুব কম শাসকের ভাগ্যেই জুটেছে। তাকে বলা হয় ‘পারস্যের নেপোলিয়ন’ বা ‘দ্বিতীয় আলেকজান্ডার’। ১৭৩৬ সালে তিনি পারস্যের (বর্তমান ইরান) আফশারীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তার জীবন একদিকে যেমন সামরিক সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিল, অন্যদিকে তার শাসনকাল ছিল চরম রক্তক্ষয়ী ও নিষ্ঠুরতায় মোড়া।
উত্থান ও ক্ষমতারোহণ
১৬৮৮ সালে এক অতি সাধারণ দরিদ্র রাখাল পরিবারে নাদির শাহের জন্ম। শৈশবে তাকে ও তার মাকে উজবেক দস্যুরা দাস হিসেবে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিজের বুদ্ধিমত্তা আর অদম্য সাহসের জোরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন এবং একটি ডাকাত দলের সর্দার হন। পরবর্তীতে তার অসামান্য রণকৌশলের কারণে তিনি তৎকালীন পারস্যের সাফাভিদ শাসকদের অধীনে উচ্চপদে আসীন হন। ১৭১২ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে পারস্যের শাহ ঘোষণা করেন।
ভারত অভিযান ও দিল্লির পতন
নাদির শাহের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত এবং ট্র্যাজিক অধ্যায় হলো ১৭৩৯ সালের ভারত অভিযান। তৎকালীন মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের অযোগ্যতার সুযোগ নিয়ে নাদির শাহ খাইবার পাস দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ঐতিহাসিক কারনালের যুদ্ধে মোগলদের বিশাল বাহিনীকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধূলিসাৎ করে দেন নাদির শাহ।
দিল্লি দখলের পর একটি গুজবকে কেন্দ্র করে তিনি সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ ‘কাতলে আম’ বা গণহত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন। একদিনেই প্রায় ৩০ হাজার নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারায়। দিল্লি পরিণত হয় এক রক্তগঙ্গার শহরে।
সম্পদ লুট: ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর
নাদির শাহ যখন দিল্লি ত্যাগ করেন, তখন তিনি ভারতের কয়েক শতাব্দীর সঞ্চিত সম্পদ লুট করে নিয়ে যান। তার লুণ্ঠিত সম্পদের তালিকায় ছিল বিশ্ববিখ্যাত ‘কোহিনূর’ হীরা এবং ‘দরিয়া-ই-নূর’। এছাড়াও তিনি মোগলদের আভিজাত্যের প্রতীক ‘তখত-ই-তাউস’ বা ময়ূর সিংহাসন সঙ্গে করে পারস্যে নিয়ে যান। বলা হয়, এই লুটের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, নাদির শাহ তার সাম্রাজ্যে পরবর্তী তিন বছরের জন্য সমস্ত কর মওকুফ করে দিয়েছিলেন।
শেষ জীবন ও পতন
সামরিকভাবে তিনি অপরাজেয় থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন চরম নিষ্ঠুর ও সন্দেহপ্রবণ। তার এই সন্দেহপ্রবণতা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, নিজের বড় ছেলে রেজাকুলি মির্জাকে তিনি অন্ধ করে দিয়েছিলেন। শেষ জীবনে তার মানসিক অস্থিরতা ও নিষ্ঠুরতা অসহনীয় হয়ে উঠলে, ১৭৪৭ সালে তার নিজের দেহরক্ষীরাই তাকে তাবুতেই হত্যা করে।
নাদির শাহের মৃত্যুতে তার বিশাল সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে, কিন্তু ইতিহাসে তিনি থেকে যান এক অদম্য যোদ্ধা এবং ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডির নায়ক হিসেবে।

]]>
https://the4thcolumn.com/news-desk-history-parsian-nadir-shah-2/feed/ 0 25254