বক্সার জঙ্গলে পঞ্চম প্রজাপতি উৎসব: ১২৫ প্রজাতির দেখা মিলল, গুরুত্ব পেল মথ পর্যবেক্ষণ | The 4th Column

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বর্ণাঢ্য প্রজাপতি উৎসব, সংরক্ষণের বার্তায় শেষ হল শিবির

নিজস্ব প্রতিনিধি, দ্য ফোর্থ কলাম,আলিপুরদুয়ার, ১০ মে ২০২৬: উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রায়মাটাং জঙ্গলে সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো পঞ্চম বর্ষের ‘প্রজাপতি উৎসব’। বনদপ্তর ও প্রকৃতিপ্রেমী সংস্থা ‘ন্যাফ’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই চার দিনের শিবিরে ১২৫ প্রজাতির বর্ণিল প্রজাপতির সন্ধান মেলায় উচ্ছ্বসিত পরিবেশবিদরা। মূলত বক্সার জীববৈচিত্র্যকে তুলে ধরা এবং পতঙ্গকুলের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
গত ৭ মে থেকে রায়মাটাং ফরেস্ট লজে শুরু হয়েছিল এই শিবির। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২৫ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন বিশেষজ্ঞ ও স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। চার দিন ধরে রায়মাটাংয়ের গভীর জঙ্গল, নদী ও পাহাড়ি ঝোরার সংলগ্ন ছ’টি পৃথক ট্রেইলে সমীক্ষা চালানো হয়। পর্যবেক্ষকদের চোখে ধরা দিয়েছে চকোলেট অ্যালবার্টস, ইয়েলো হেলেন, কমন ম্যাপ, অরেঞ্জ ওকলিফ এবং রেড স্পট স্বটুথের মতো বিরল ও দৃষ্টিনন্দন সব প্রজাপতি। বিশেষজ্ঞ রুদ্রপ্রসাদ দাসের মতে, মাত্র কয়েক দিনে বক্সার মোট প্রজাপতি বৈচিত্র্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দেখতে পাওয়া এক বড় সাফল্য।
এবারের উৎসবের বাড়তি আকর্ষণ ছিল ‘নাইট ট্র্যাপিং’ বা মথ পর্যবেক্ষণ। প্রতিদিন রাতে সাদা পর্দায় বিশেষ আলোর ফাঁদ পেতে রাতভর চলে মথ শনাক্তকরণের কাজ। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় একাধিক আলোচনা সভা ও টেকনিক্যাল সেশন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বনকর্তা বিদ্যুৎ সরকার, উজ্জ্বল ঘোষ এবং বক্সার ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল।
তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও উঠে এসেছে উদ্বেগের সুর। বিশেষজ্ঞ যুধাজিৎ দাসগুপ্ত সতর্ক করে জানান যে, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ পতঙ্গ আজ বিলুপ্তির পথে। বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে পতঙ্গদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ন্যাফ-এর মুখপাত্র অনিমেষ বসু বলেন, “বক্সা শুধু বাঘ বা হাতির নয়, এটি প্রজাপতি ও মথেরও স্বর্গরাজ্য। এই ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।” রবিবার দুপুরে এই বর্ণময় শিবিরের সমাপ্তি ঘটে।

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!